শিরোনাম
গোয়ালন্দে একদিনে নারীসহ ১৩ আসামি গ্রেপ্তার পাটুরিয়া ঘাটে গাড়িসহ ফেরি ডুবি- এক ঘণ্টার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলার ইউএনও হলেন বাবলী- শিবালয়ে নিষিদ্ধ সময়ে যমুনার চরে দিনব্যাপী ইলিশের হাট দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে যৌনকর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার- গোয়ালন্দে কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহল মরাপদ্মায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বহিস্কার গোয়ালন্দে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আটক- গোয়ালন্দে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই জন আটক গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

নৌ দুর্ঘটনা ও বাংলাদেশের চিত্র

রনি মন্ডল | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১৪১ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ৮ মে, ২০২১

0Shares

মানুষ তার দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করতে বাড়ির বাইরে বের হয়ে, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে। এই যাতায়াতের জন্য তিনটা পথ রয়েছে, স্থলপথ, জলপথ, আর আকাশ পথ। এর বাইরে আর কোন পথ নেই, আমরা চলাচলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারি। স্থলপথ, আকাশপথের কথা বাদ দিয়ে আজকে আলোচনা করবো জলপথ নিয়ে। প্রাচীন কাল থেকেই বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে অনেক নদী প্রবাহিত হয়েছে। আর নদীমাতৃক দেশ হওয়ার জন্যই এ দেশ বদ্বীপ হিসেবে পরিচিত ছিল। নদীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নদীর তীরবর্তী মানুষদের বসবাসের কারণে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নদীর গুরুত্ব রয়েছে। এছাড়াও আমরা জানি বাংলাদেশে একটি সমুদ্র রয়েছে বঙ্গবসাগর নামে। এই সাগর কে কেন্দ্র করে দেশে তিনটি সমুদ্র বন্দর রয়েছে। যেসব বন্দর ব্যবহার করে আমরা অন্য দেশ থেকে পণ্য আমদানি করি। তাহলে বোঝা গেল পানিপথের গুরুত্ব রয়েছে যাতায়াতের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশ এমনও জেলা রয়েছে যেগুলোতে যাতায়াতে স্থল পথের ব্যবস্থা নেই এখানে সেখানে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম জলপথ। এছাড়াও জল পথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সময় এবং ভাড়া কম হওয়ার কারণে এই পথ ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় পর্যটকরা দেশে প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকন করার জন্য জলপথ ব্যবহার করে। জলপথের এমন গুরুত্বের জন্যই আজ আমরা জলপথে নৌ-দুর্ঘটনা দেখতে পাচ্ছি। সম্প্রতি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় ব্যঙ্কহেডের সঙ্গে স্পিড সংঘর্ষ ঘটে ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। এত সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বলা হয় যে, স্পিড বোর্ডের ধারণ ক্ষমতা ছিল ১০-১২ জন, কিন্তু যাত্রী বহন করেছিল ৩০ জনের অধিক। সেই স্পিড বোর্ড এ কোন ধরনের লাইফ জ্যাকেট ছিল না যার ফলে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটে। একটা হিসাব অনুযায়ী অন ১৯৯১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ২৯ বছরে ৫৭০ দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৬৫৪ জন মারা গেছে। ৫৭০ টি দুর্ঘটনার মত যাত্রীবাহী নৌযান এর সংখ্যা ২৩৬ টি। ৫০ বছরের একটা হিসাব অনুযায়ী দেশে নৌ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২০ হাজার ৫০৮ জন। দুর্ঘটনার কারণ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী সংঘর্ষের কারণে ৪২ দশমিক ৭০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া অতিরিক্ত মাল বোঝাই করার কারণে ২৪ দশমিক ৭০ শতাংশ, এবং আবহাওয়া বৈরিতার কারণে ২৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। এতসব কারণে নৌ দুর্ঘটনা ঘটার ফলে দেশের আদালতে মানে নৌ আদালতে মামলা হয়। কিন্তু বাস্তবে সে মামলার কোনো সমাধান হয় কিনা এমন প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ নো আদালতে মামলা ঝুলে রয়েছে প্রায় ১৬০০টি, এতগুলো মামলা আদালত নিষ্পত্তি করতে পারবে কিনা এমন সংশয় দেশের নাগরিকদের মাঝে। এসব মামলার ক্ষেত্রে দেখা যায় রাষ্ট্রপক্ষের উদাসীনতা, এবং সাক্ষী হাজির করতে অপারগতা যা প্রমাণ করে এসব মামলা এমন ঝুলন্ত অবস্থায় থাকবে। নৌ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আরও কিছু কারণ রয়েছে বলে মনে হয়। যারা নৌযানগুলো চালায় তাদের অনেকেরই নেই কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই কোনো প্রশিক্ষণ এবং এদের অনেকেই প্রয়োজনীয় শিক্ষা টুকু ও অর্জন করেনি। এমন চিত্রের ফলে আজ বছরের-পর-বছর সাধারণ মানুষদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। নেই কোন ট্রাফিক জ্যাম নেই কোনো সংকীর্ণতা তাহলে কেন এমন দুর্ঘটনা ঘটবে? যদি দেশের প্রশাসন নৌপথের দিকে তাদের দৃষ্টি প্রদান করে, এবং দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে যেসব কারণ দেখানো হয়েছে সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত করার জন্য চালকদের নির্দেশ প্রদান করে তাহলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করি

জাফরুল ইসলাম
শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg