শিরোনাম
এক ঘণ্টার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলার ইউএনও হলেন বাবলী- শিবালয়ে নিষিদ্ধ সময়ে যমুনার চরে দিনব্যাপী ইলিশের হাট দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে যৌনকর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার- গোয়ালন্দে কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহল মরাপদ্মায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বহিস্কার গোয়ালন্দে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আটক- গোয়ালন্দে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই জন আটক গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান রাজবাড়ীতে শেখ হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মানি বিতরণ অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে জরিমানা, ৭টি ড্রেজার জব্দ

ফিলিস্তিন সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের হালচাল

রনি মন্ডল | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১২৯ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১

0Shares

বর্তমানে পৃথিবীতে যতগুলো সংঘাত বিরাজমান তার মধ্যে অধিকাংশই ঘটে মধ্যপ্রাচ্যে। এই মধ্যপ্রাচ্যকে নিজেদের বলয়ে রাখার জন্য বছরের পর বছর ধরে পশ্চিমা বিশ্ব গুলো তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতি পশ্চিমাদের এমন প্রচেষ্টার অন্যতম কারণ হলো, জ্বালানি তেল এবং বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য যে খাল গুলো ব্যবহার করা হয় তার অবস্থান। ভৌগলিক এবং অর্থনৈতিক এমন অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলে সংকট বিদ্যমান। মধ্যপ্রাচ্যের যতগুলো সংকট বিদ্যামান তার মধ্যে অন্যতম একটি সংকটের নাম হচ্ছে ফিলিস্তিন সংকট। ফিলিস্তিন সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমে যে বিষয়টি চলে আসে সেটা হলো ধর্মীয় গুরুত্ব। অর্থাৎ ফিলিস্তিনে অবস্থিত জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ যেটা মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গার নাম কারণ এটাই ছিল মুসলমানদের প্রথম কেবলা। যিশুখ্রিস্টের জন্ম ফিলিস্তিনের বেথেলহেমে তাই খ্রিস্টানদের কাছেও এই অঞ্চলের গুরুত্ব বহন করে। আর সর্বশেষ ইহুদিরা দাবি করে এই অঞ্চল হল তাদের আদি নিবাস, অর্থাৎ প্রাচীনকালে ইহুদীরাই অঞ্চলে বসবাস করত তাই তারা এই অঞ্চলের প্রধান দাবিদার। ইহুদিদের এমন দাবির ফলে তারা ১৮৮০ সাল থেকে ফিলিস্তিনে পরিবেশ শুরু করে। তবে ফিলিস্তিনে ইহুদীদের বসবাস শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে।১৯১৭ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড বেলফোর ঘোষণা করে ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠার। বেলফোর এর এমন ঘোষণার ফলে ফিলিস্তিন সংকটের সূচনা হয় বলে ধারণা করা হয়। আসলে ফিলিস্তিন সংকট শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলে। কারণ এই সময় এই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ছিল তুরস্ক সাম্রাজ্য ভুক্ত, কিন্তু যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে ফিলিস্তিনের কর্তৃত্ব গ্রহণ করে ব্রিটিশরা যার ফলে সংকটের শুরু হয়। এছাড়াও ১৯৩৩ সালে জার্মানির ক্ষমতা হিটলার গ্রহণ করার ফলে হিটলার ইহুদিদের নির্যাতন শুরু করলে ইহুদিরা দলে দলে ফিলিস্তিনে চলে আসে এবং বসতি শুরু করে। ইহুদিদের বসতি স্থাপন কে কেন্দ্র করে আরব ইসরাইলের মধ্যে ১৯৪৮, ১৯৫৬,১৯৬৭, এবং ১৯৭৩ সালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সূচনা ঘটে। প্রতিটি যুদ্ধে আরবরা পরাজিত হয় ইজরাইল বিজয়ী হয় তারা ফিলিস্তিনের ৭৪ শতাংশ দখল করতে সক্ষম হয়। ইসরাইলের এমন দখলদারিত্বের ফলে ফিলিস্তিনের সাথে ইজরায়েলের সংঘর্ষ চলতে থাকে যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাঠক প্রশ্ন করতে পারেন ফিলিস্তিনের সংকট সমাধানের কোনো উদ্যোগ কি গ্রহণ করা হয়েছিল? এর উত্তর হচ্ছে হ্যা ১৯৬৪ সালে ফিলিস্তিন জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পি এল গঠন করা হয়। ১৯৬৯ সালে ইয়াসির আরাফাত PLO দায়িত্ব গ্রহণ করেন, এবং এই পি এল ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ সালে ওয়াশিংটনে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তবে এই চুক্তির অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি।পরবর্তীতে ২০০৩ সালে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, ও রাশিয়া সমর্থনে রোডম্যাপ ঘোষিত হয়, এবং ২০০৫ সালের মধ্যে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার কথা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্ছি স্বাধীনতা শব্দটি যেন ফিলিস্তিনের জন্য অবান্তর, অর্থাৎ ফিলিস্তিনকে নিয়ে বিশ্ব মোড়লদের বর্তমানে যে অবস্থা তাতে আদৌ কি স্বাধীনতা অর্জন করতে পারবে এমন প্রশ্ন থেকেই যায়। যে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিন স্বাধীনতার পক্ষে ছিল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকলাপের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যে তারা স্বাধীনতার পক্ষে নয়। ২০১৮ সালে জেরুজালেমকে ট্রাম্প কতৃক রাজধানী ঘোষণা করার মাধ্যমে বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলের বড় সমর্থক। অন্যদিকে সৌদি আরব ইহুদীদের সাথে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল সেই সৌদি আরবে এখন আস্তে আস্তে আমেরিকার মাধ্যমে ইজরায়েলের সমর্থক হয়ে উঠছে। অবশ্য সৌদি আরবের এমন অবস্থানে কারণ হলো যুবরাজ সালমান,যিনি আমেরিকার সাথে সৌদি আরবের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরীর পক্ষে। সৌদি আরবের এমন অবস্থানের কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের একক ক্ষমতা গ্রহণ করা। আমরা জানি মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ইরান উদীয়মান শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে যা সৌদি আরবের পছন্দনীয় নয়। আর ইসরাইল,সৌদি ইরান দ্বন্দ্বের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আপনারা লক্ষ্য করতে পারেন ইজরায়েলের এখন প্রধান লক্ষ্য হল সৌদি আরবের স্বীকৃতি আদায় এই লক্ষ্যে ইজরাইল এগিয়ে যাচ্ছে। আর এখন আমেরিকা-ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ফলে ইরানের উপর প্রভাব বিস্তার করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আমেরিকা কখনো হাত ছাড়া করবে না। এমন প্রেক্ষাপটের কারণে আজ ফিলিস্তিন সংকট সমাধান করা সম্ভব হয়ে উঠেছেনা, যার ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনী অবৈধ রাষ্ট্রকর্তৃক মৃত্যুবরণ করছে। তাই বিশ্বের মুসলমান প্রধান রাষ্ট্রগুলোর উচিত ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা যদিও হামাস নামক একটা স্বাধীনতাকামী সংগঠন যারা ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা করার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছে। তাদের এমন লড়াই কতটুকু বাস্তবায়িত হবে সেটাই দেখার বিষয়। কারণ যেখানে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অহিনকুল সম্পর্ক সেখানে এমন সংগঠনের সমর্থক থাকবে কি না এবং ভবিষ্যৎ মধ্যপ্রাচ্যের কি স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে কি না এমন প্রশ্ন থেকেই যায়।

লেখক,
জাফরুল ইসলাম
শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg