শিরোনাম
গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান রাজবাড়ীতে শেখ হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মানি বিতরণ অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে জরিমানা, ৭টি ড্রেজার জব্দ গোয়ালন্দে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ এমপি কন্যা চৈতীর উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে শেষ হলো রাজবাড়ী সার্কেল আয়োজিত ইসলামিক কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২১ করোনা ভাইরাস থেকে পরিত্রাণের জন্য রাজবাড়ী সার্কেলের বিশেষ দোয়া মাহফিল গোয়ালন্দে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার নতুন পোশাক পেল সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা দৌলতদিয়ায় হেরোইনসহ ৩ জন আটক রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান আদালতে ব্যবসায়ীসহ ৫জনকে অর্থ জরিমানা পশ্চিম আকাশে চাঁদ দেখা গিয়াছে, আগামীকাল থেকে রোজা শুরু 

মৃত্যুপুরী দিল্লির রাস্তায় মরাদেহ ছিঁড়ে খাচ্ছে কুকুর

রনি মন্ডল | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৬৯ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১

0Shares

দিল্লির গাজিয়াবাদের হিন্দোন শ্মশানের বাইরে একটি মরাদেহ ছিঁড়ে খাচ্ছে কুকুর

মৃত্যুপুরী বললেও কিছুই বোঝানো যাচ্ছে না আর। বুধবারের দিল্লি নরককুণ্ড ছাড়া আর কিছুই নয়। এদিন সেখানে কোভিডে দৈনিক মৃতের সংখ্যা সাতশ’-তে পৌঁছেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, শিগগিরই এ সংখ্যা হাজার ছাড়াবে। ভারতের রাজধানী শহরের বিভিন্ন শ্মশানের বাইরে রাস্তায় টোকেন নিয়ে মরাদেহের দীর্ঘ লাইন। ২০ ঘণ্টা কেটে যাচ্ছে আগুন পেতে। লাশ ছিঁড়ছে কুকুর। শ্মশানের দরজায় দরজায় ঘুরে জায়গা না পেয়ে স্রেফ বরফ চাপা দিয়ে ৪৮ ঘন্টাও বাড়িতে শব রেখে দিচ্ছে স্বজনেরা। কুকুরের মৃতদেহ পুঁতে ফেলার জায়গা ব্যবহার করা হচ্ছে মানুষকে দাহ করার জন্য।

এ যদি নরক না হয়, তা হলে নরক ঠিক কী? প্রশ্ন দিল্লিবাসীর। এরই মধ্যে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে যথারীতি বসেছে আইপিএল-এর আসর। দর্শকশূন্য মাঠ হলে হবে কী! নিরাপত্তার ব্যবস্থা তো করা চাই! অতএব স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে অ্যাম্বুলেন্স, কোভিড পরীক্ষার যাবতীয় সরঞ্জাম। ওদিকে শহরের মানুষ খাবি খাচ্ছেন, ওষুধের অভাবে, শয্যার অভাবে ধুঁকছেন। আইপিএল চলছে। কারা চালাচ্ছে? কার স্বার্থ রক্ষা করছে ভারতীয় ক্রিকেট? ক্ষোভে ফেটে পড়ছে নাগরিক সমাজ।

দিল্লির সুভাষনগর শ্মশানে টিনের চালের নিচে সারি সারি চিতা জ্বলছে। উড়ছে ছাই। এমনিতে নতুন নয় এই দৃশ্য। কিন্তু সেই ছাই উড়ে পড়ছে পাশের যে চাতালে? সেই চাতাল ধরেই এখন মৃতদেহের সর্পিল রেখা। এক ঝলক তাকালেই মাচার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা অন্তত ১৫-২০টি দেহ চোখে পড়ছে। পাশের উঁচু বাঁধানো জায়গায় ঘি এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বসে রয়েছেন স্বজনরা। এক, দুই ঘণ্টা নয়, ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টাও বসে রয়েছেন কেউ কেউ। যে প্লাস্টিকের ব্যাগে মৃতদেহ মোড়া রয়েছে, তার ওপর নাম, নম্বর লেখা। হাতছাড়া হওয়ার ভয় নেই। তাই একটানা বসে না থেকে পোড়া দেহের গন্ধ এবং ধোঁয়া থেকে বেরিয়ে মাঝেমধ্যে বাইরে ঘুরে আসছেন অনেকে।

শুধু একটি শ্মশানের ছবি নয় এটা। দক্ষিণ দিল্লির বিকাশ নগরে সোমবার রাতে বছর ৩৫-এর এক কোভিড রোগিনীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল দীনদয়াল হাসপাতালে। যথারীতি বেড না পেয়ে ফিরে এসে বাড়িতেই রাখা হয়। মাঝরাতে শ্বাসকষ্টে মারা যান তিনি। শেষ রাতে নিকটবর্তী রণহৌলা শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দেখা যায়, গেট বন্ধ। কিন্তু বাইরে ছয়টি মৃতদেহের লাইন। জানা গেছে, তাদের টোকেন দেওয়া হয়েছে। কখন ডাক আসবে বলা যাচ্ছে না। বাড়ি ফিরে বরফবন্দি করে রাখা হয় মৃতকে। পরদিন সকাল ১০টায় উত্তমনগরের কালি বস্তি শ্মশানে গিয়ে শেষ পর্যন্ত দাহ করার সুযোগ পায় মৃতের স্বজনরা।

দিল্লির একটি শ্মশানের সামনে মরদেহের সারিদিল্লির একটি শ্মশানের সামনে মরদেহের সারি
সোমবার বিকেলে ওই সুভাষনগরের শ্মশানটিতেই কোভিডে মৃত বাবার দেহ নিয়ে গিয়েছিলেন বছর ৪০-এর মনমীত সিংহ। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্স, গাড়ির ভিড় কাটিয়ে শ্মশানে ঢুকতে যাবেন, তার আগেই রাস্তা আটকালেন এক কর্মী। জানিয়ে দিলেন, আর দেহ নেওয়া যাবে না। কারণ দাহ করার জায়গা ও কাঠ নেই। আর সিএনজি চুল্লিতে একসঙ্গে দুইটির বেশি মরদেহ দাহ করা যায় না। তাতেও এক একটি দেহের পেছনে কমপক্ষে ৯০ মিনিট সময় লাগবে। ইতোমধ্যে লাইনে ২৪টি দেহ রয়েছে। তাই অন্য কোথাও যেতে হবে তাকে। এর পর পশ্চিম বিহার এলাকার একটি শ্মশানে গিয়ে বাবাকে দাহ করেন তিনি। সংবাদ সংস্থাকে মনমীত বলেছেন, ‘সরকার হাসপাতালে অক্সিজেন দিতে পারছে না। অন্তত শ্মশানে জায়গা তো দিক, যাতে পৃথিবী থেকে বিদায়টা ঠিকমতো হয়!’

জায়গার অভাবে গাজিপুরের কাছে একটি শ্মশানের পার্কিং লটই গণচিতার আকার নিয়েছে। পরপর জ্বলছে দেহ। গত রবিবার কোভিডে মৃত্যুর পর গাজিয়াবাদ জেলা আদালতের এক কর্মীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হিন্দোন শ্মশানে। মৃত ব্যক্তির সহকর্মী ত্রিলোকী সিংহ জানিয়েছেন, তারা সকাল ৮টায় পৌঁছানোর পর টোকেন দেওয়া হয় বেলা ১০টার। কারণ লম্বা লাইন পড়েছে। পরে সেই টোকেন বদলে নতুন সময় দেওয়া হয় সন্ধ্যা ৬টায়।

শ্মশানে লাশের সারিশ্মশানে লাশের সারি
শবানুগামীরা দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎই এক স্থানীয় ব্যক্তি এসে খবর দেন, রাস্তার কুকুর এসে মৃতদেহ ছিঁড়ে দিচ্ছে। তারা দৌড়ে যান। সেই ছবি ও সংবাদ প্রকাশ্যে এসে নিদারুণ বিড়ম্বনায় ফেলেছে দিল্লি সরকারকে। কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা ‘নিজের মানুষের দেহের ওপর দাঁড়ানো কোনও সরকার মজবুত হতে পারে না। অন্তিম সংস্কারের জন্য এই অন্তহীন অপেক্ষা শাসকের পাষাণ হৃদয়কেই তুলে ধরছে।‌‌’ সূত্রঃবাংলা ট্রিবিউন

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg