শিরোনাম
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বহিস্কার গোয়ালন্দে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আটক- গোয়ালন্দে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই জন আটক গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান রাজবাড়ীতে শেখ হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মানি বিতরণ অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে জরিমানা, ৭টি ড্রেজার জব্দ গোয়ালন্দে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ এমপি কন্যা চৈতীর উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে শেষ হলো রাজবাড়ী সার্কেল আয়োজিত ইসলামিক কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২১ করোনা ভাইরাস থেকে পরিত্রাণের জন্য রাজবাড়ী সার্কেলের বিশেষ দোয়া মাহফিল গোয়ালন্দে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার নতুন পোশাক পেল সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা

ফেসবুক তথা অনলাইন আসক্তি তরুণদের মেধা বিকাশের অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধক

জহুরুল ইসলাম হালিম | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৭০ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১

0Shares

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে। আর এই প্রবাদের ব্যাখ্যা হল আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, অর্থাৎ আজকে যিনি তরুণ তারা একদিন রাষ্ট্রের কর্ণধার হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করবে। মানুষের জীবনের চারটি কাল রয়েছে, শিশু, কিশোর, যুবক, এবং বার্ধক্য। আর এই চারটি কালের মতো সমাজ এবং দেশকে নিয়ে চিন্তার মোক্ষম সময় হল কিশোর এবং যুবক অবস্থায়। পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশের সৃজনশীলতা মূলক কর্মকান্ডে সবচেয়ে বেশি জড়িত থাকে তরুণরা। আর এসব সৃজনশীল মূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে তারা দেশকে বিশ্বের দরবারে সম্মানজনক স্থানে অধিষ্ঠিত করে। এখন যদি এই তরুণরা সৃজনশীল গুলো কোন কাজের সাথে জড়িত হওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করে, তাহলে ভবিষ্যতে দেশের ম্যানপাওয়ার এর কাঠামো কেমন হতে পারে একবার ভেবে দেখতে পারেন। আমরা জানি বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ, এ যুগের মানুষদের নিত্যপ্রয়োজনীয় যাবতীয় কাজ প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। বিশ্বের প্রায় ২৭০ কোটিরও অধিক মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। আর এই বিশাল জনগোষ্ঠী ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দিনের অধিকাংশ সময় ইন্টারনেটের পেছনে ব্যয় করে। একটা পরিসংখ্যান ২০১৬ সালে প্রকাশ পেয়েছিল, যেখানে দেখানো হয়েছে একজন মানুষ দিনে অন্তত ২৬৬৪ বার তার নিজের মোবাইল ফোনের স্কিন স্পর্শ করে। আর এই স্ক্রিণ স্পর্শ করার কারণ হলো তারা তাদের ফোনের নোটিফিকেশন চেক করে, এবং কোন এসএমএস আসলো কিনা ইত্যাদির দিকে মনোনিবেশ করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে কিভাবে তরুণরা আসক্তির চরম সীমায় পৌঁছে যাচ্ছে তা কিছু পরিসংখ্যান এর মাধ্যমে আলোচনা করা যাক। বর্তমানে যারা দ্রুত ইন্টারনেটে আসক্ত হচ্ছে তাদের বয়স ১৪ থেকে ২৪ বছর অর্থাৎ তরুণ সমাজ। এবং এদের মধ্যে প্রায় ৭৭ ভাগ পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত, এবং পৃথিবীতে প্রায় ২২০কোটি মানুষ ভিডিও গেম খেলে। বাংলাদেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১ কোটি ২৭ লাখ, যাদের মধ্যে ১০ কোটি ৩২ লাখ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট এর সাথে যুক্ত। আর এই বিশাল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৩৫ শতাংশ। আর বাংলাদেশ প্রতিদিন শুধু পাবজী নামক ভিডিও গেম খেলে ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ। এসব ভিডিও গেম খেলার ফলে তাদের মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। কারণ এসব গেমে সাধারণত গোলাবারুদ ব্যবহার করার মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। যার ফলে যখন তারা গেমে পরাজিত হয় তখন তাদের মন এবং মেজাজ খিটখিটে হয়, অল্পকথায় একে অপরের সাথে রাগারাগি করে। এছাড়াও এসব গেমে বিভিন্ন ধাপ থাকে যেসব ধাপ অতিক্রম করতে পারলে অনেক রকম সুবিধা প্রদান করা হয়। আর এসব ধাপ অতিক্রম করার জন্য যারা গেম খেলে তারা একটানা দীর্ঘ সময় এসব গেমের পেছনে ব্যয় করে। তাছাড়াও বর্তমানে এক বছর যাবত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময় টুকু এসবের পেছনে ব্যয় করছে। যেখানে শিক্ষার্থীদের উচিত ছিল এই সময়টুকু গুলোকে কাজে লাগিয়ে নিজের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করা নতুন কিছু উদ্ভাবন করা। শিক্ষার্থীরা যদি এইভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা ইন্টারনেটের সময় পার করে তাহলে ভবিষ্যতে দেখা যাবে জাতি এক মেধা শূন্যতায় ভুগছে। অনলাইন দুনিয়ার করাল গ্রাস থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিশু এবং কিশোর যাদের প্রায় ১৯ শতাংশ ভিডিও গেম এবং ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পিতা-মাতাকে সন্তানের সাথে সময় দিতে হবে। কারণ দেখা যায় বর্তমানে পিতা-মাতা দুজনে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার ফলে তাদের সন্তানরা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে, এবং এই নিঃসঙ্গতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অনলাইন কে তারা সঙ্গ হিসেবে বেছে নেয়। তাই পিতা-মাতারা সন্তানদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করার মাধ্যমে এই অনলাইন করাল গ্রাস থেকে সন্তানকে রক্ষা করার মাধ্যমে তাদের মেধা বিকাশে সাহায্য করতে হবে।

জাফরুল ইসলাম
শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg