শিরোনাম
আইনপ্রণেতা হয়ে নিজেই আইন লঙ্ঘন করলেন এমপি মমতাজ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ গোয়ালন্দ সরকারি হাসপাতালে মসজিদে জমি দান করায় বাবাকে হাতুড়িপেটা করে নির্মমভাবে হত্যা গোয়ালন্দে ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রাজনীতিকে বিদায় জানালেন ছাত্রলীগ নেতা দুধ বিক্রি না করায় কৃষককে পেটালেন আ.লীগ নেতা ঢাকাসহ ১৩ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষ ভাড়া নিয়ে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ! ব্যাহত হচ্ছে স্কুলের পাঠদান। মানিকগঞ্জে পাসপোর্ট করতে এসে দালালসহ রোহিঙ্গা নারী আটক মানিকগঞ্জে হেরোইনসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

রমজানে রোজার কাজা ও কাফফারা আদায়

জহুরুল ইসলাম হালিম / ৪৮৫ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১

0Shares

সূরা আল বাকারা আয়াতঃ ১৮৪।

অর্থঃ গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুস্থ/অসুখ থাকবে অথবা ভ্রমণে/সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।
সিয়াম সাধনার মাস, রমজান মাসে যাঁরা অসুস্থ/পীড়িত, অতিবৃদ্ধ, যাঁদের দৈহিক ভীষণ দুর্বলতার কারণে রমজানের রোজা পালন করা খুবই কষ্টদায়ক হয়, যাঁরা ভ্রমণে/সফরে থাকার কারণে সিয়াম পালন করতে পারেন না, তাঁদের জন্য রমজানের রোজার কাজা, কাফফারা, ফিদইয়া ইত্যাদি বদলা ব্যবস্থা স্থির করে ইসলামি শরিয়তে সুনির্দিষ্ট বিধি-ব্যবস্থা রয়েছে। এ সম্পর্কে পবিত্র আল-কুরআনে প্রথমেই আমরা একটি দলীল উপস্থাপন করেছি।
যেসব কারণে রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করা যাবে তবে পরে শুধুমাত্র কাজা করলেই চলবে হয় তা হচ্ছে;
১। সফর, ভ্রমণের অবস্থায় বা মুসাফির অবস্থায়।
২। রোগ বৃদ্ধির বেশি আশঙ্কা থাকলে।
৩। গর্ভের মা ও সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে।
৪। এমন তৃষ্ণা বা ক্ষুধা হয়, যাতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকতে পারে।
৫। শারীরিকভাবে শক্তিহীন বৃদ্ধ হলে।
৬। কোনো রোজাদারকে সাপে দংশন করলে।
৭। মেয়েদের ঋতুবতী কালীন সময় হায়েজ-নেফাসকালীন সময় রোজা ভঙ্গ করা যায়।
আর যেসব কারণে রমজানের রোজার কাজা ও কাফফারা দুটোই ওয়াজিব হয় তা হলোঃ ইচ্ছা কৃতভাবে জেনে শুনে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করলে রোজা ভেঙে যাবে। এমতাবস্থায় কাজা ও কাফফারা দুটোই ওয়াজিব হয়।
অবশ্যই মনে রাখবেন, শরীয়তে কঠোর নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বিনা কারণে রোজা ভঙ্গ করলে তার অবশ্যই কাজা-কাফফারা উভয়ই আদায় করা ওয়াজিব। যতটি রোজা ভঙ্গ হবে, ততটি রোজা আদায় করতে হবে। কাজা রোজা একটির পরিবর্তে একটি অর্থাৎ রোজার কাজা হিসেবে শুধু একটি রোজাই যথেষ্ট। কাফফারা আদায় করার তিনটি বিধান রয়েছে। ১। একটি রোজা ভঙ্গের জন্য একাধারে লাগাতার মাঝখানে কোনরকম বিরতি ছাড়াই ৬০টি রোজা রাখতে হবে। কাফফারা ধারাবাহিক ভাবে ৬০টি রোজাই রাখতে হবে, মাঝে কোনো একটি রোজা ভঙ্গ হলে আবার নতুন করে প্রথম থেকে শুরু করতে হবে। ২। যদি কারও জন্য ৬০টি রোজা পালন সম্ভব না হয়, তাহলে সে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা খানা দেবে।
৩। গোলাম বা দাস-দাসী মুক্ত আজাদ করে দিতে হবে।
রোজার ফিদইয়াঃ রমজানের রোজা রাখা দুঃসাধ্য হলে একটা রোজার পরিবর্তে একজন দরিদ্রকে অন্নদান করা কর্তব্য। শরীয়ত মুতাবেক রোজা রাখার সামর্থ্যহীন হলে প্রতিটি রোজার জন্য একটি করে ‘সাদাকাতুল ফিতর’-এর সমপরিমাণ গম বা তার মূল্য গরিবদের দান করাই হলো রোজার ‘ফিদইয়া’ তথা বিনিময় বা মুক্তিপণ। অতিশয় বৃদ্ধ বা গুরুতর রোগাক্রান্ত ব্যক্তি, যার সুস্থ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই অথবা রোজা রাখলে জীবনহানির আশঙ্কা থাকে, তারা রোজার বদলে ফিদইয়া আদায় করবে। পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তি যদি সুস্থ হয়ে রোজা রাখার মতো শক্তি ও সাহস পায়, তাহলে তার আগের রোজার কাজা আদায় করতে হবে। তখন আগে আদায়কৃত ফিদইয়া সাদাকাহ হিসেবে গণ্য হবে।
অসুস্থ ব্যক্তির ফিদইয়া বা মুক্তিপণ আদায় না করে মারা গেলে তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে ফিদইয়া আদায় করা কর্তব্য; যদি মৃত ব্যক্তি অসিয়ত করে যায়। অন্যথায় আদায় করা মুস্তাহাব। উল্লেখ্য যে প্রতিটি রোজার ফিদইয়া হলো একটি সাদাকাতুল ফিতরঃ
সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণঃ গম, আটা, চাল, কিশমিশ, খেজুর বা আঙ্গুর দ্বারা আদায় করা যায় । জনপ্রতি এক সা অর্থাৎ সাড়ে তিন কেজি পরিমাণ আদায় আদায় করতে হয়। যদি কেউ উল্লিখিত সম্পদের সমপরিমাণ দান করেন, তাহলেও আদায় হয়ে যাবে । যেমন পবিত্র হাদিসে বর্ণিত হয়েছে হযরত ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন –
“ফারাদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যাকাতাল-ফিতরি মিন রমাদানা সা-আন মিন তামারিন আও সা-আন মিন শাই’য়িরিন আলাল আব্দি অল-হুররি অ-জাকারি অল-উনছা অস-সাগিরি অল-কাবিরি মিনাল-মুসলিমিনা।”
অর্থাৎ, আল্লাহ্‌র হাবিব তাজেদারে কায়েনাত দোজাহানের বাদশাহ আহাম্মাদে মুজতবা হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (সাঃ) সাদাকাতুল ফিতর এক সা {সাড়ে তিন কেজি } পরিমাণ খেজুর কিংবা যব প্রত্যেক মুসলিম, ক্রীতদাস ও স্বাধীন, পুরুষ ও নারী, ছোট ও বড় সকলের উপর অপরিহার্য করেছেন। {সূত্রঃ সহিহ বুখারি ও মুসলিম } আল-আকায়েদ ওয়াল ফিকহ। দাখিল অষ্টম শ্রেণী। পৃষ্ঠা নং ১৫১। বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা।
সাদাকাতুল ফিতর এক সা {সাড়ে তিন কেজি } পরিমাণ দরিদ্র এতিম বা মিসকিনকে দান করা অথবা একজন ফকির বা গরীবকে দুই বেলা পেট পুরে খাওয়ানো। অনেক জায়গায় দেখা যায়, গরীব লোক কোনো ধনীর বদলি রোজা পালন করে দিচ্ছে। মনে রাখবেন, কোনো অবস্থাতেই একজনের রোজা অন্যজন বদলি হিসেবে পালন করতে পারবে না। কেউ কারও রোজা বদলি হিসেবে রাখলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তা শুদ্ধ হবে না। রোজার ফিদইয়া গুনাহমাফির মাধ্যমে মানুষকে নিষ্কলুষ ও নির্ভেজাল করে। রোজাকে মহান আল্লাহ পাক মানুষের আত্মিক পরিশুদ্ধির এক সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে বান্দার জন্য নির্ধারণ করেছেন। রোজার কাজা, কাফফারা ও ফিদইয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন। দোজাহানের বাদশাহ তাজেদারে কায়েনাত ইমামুল আম্বিয়া হুজুর রাসুলুল্লাহ (দঃ) বলেছেন, ‘পূর্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে সওয়াবের আশায় যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোজা রাখবে, মহান আল্লাহ পাক তার বিগত দিনের গুনাহ মাফ করে দেবেন।’
সূত্রঃ সহীহ আল-বুখারি।
বিনা কারণে যে ব্যক্তি একটি রোজা না রাখে এবং পরে যদি ঐ রোজার পরিবর্তে সারা বছরও রোজা রাখে, তবু সে ততটুকু সওয়াব পাবে না, যতটুকু মাহে রমজানে ঐ একটি রোজা পালনের কারণে পেত। এ সম্পর্কে ফিকহবিদদের মতে, দুই মাস একাধারে রোজা রাখলে স্বেচ্ছায় ভাঙা একটি রোজার কাফফারা আদায় হয় আর এ কাফফারার বিনিময়ে একটি রোজার ফরজের দায়িত্বটাই কেবল আদায় হয়। আর যারা নানা অজুহাতে ও স্বেচ্ছায় পুরো মাহে রমজানের রোজা রাখে না, তাদের শাস্তি কত যে কঠিন হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg