শিরোনাম
এক ঘণ্টার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলার ইউএনও হলেন বাবলী- শিবালয়ে নিষিদ্ধ সময়ে যমুনার চরে দিনব্যাপী ইলিশের হাট দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে যৌনকর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার- গোয়ালন্দে কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহল মরাপদ্মায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বহিস্কার গোয়ালন্দে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আটক- গোয়ালন্দে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই জন আটক গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান রাজবাড়ীতে শেখ হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মানি বিতরণ অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে জরিমানা, ৭টি ড্রেজার জব্দ

একজন আরিফা বেগম ও চরাঞ্চলের একটি স্কুলের কথন

রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ ডেস্ক / ৮২১ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০

0Shares

রাজবাড়ী’র গোয়ালন্দ উপজেলার প্রত্যন্ত ও চরাঞ্চল উজানচর। এ এলাকার মানুষ অন্যান্য সকল সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি শিক্ষা দিক্ষার দিক দিয়েও অনেক পিছিয়ে। ফলে এ জনপদের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে জ্ঞানের আলোই দিক্ষিত করে সামনে নিতে বহুমুখী ভাবনার পাশাপাশি নানাবিধ কর্মকান্ড চালিয়ে থাকেন উপজেলা সদর থেকে দূরে প্রত্যন্ত উজানচরের মন্ডলবাড়ীর আতিয়ার রহমান, ডাঃ জালালউদ্দিন আহমেদ সহ কয়েকজন বিদ্যানুরাগী।

চরাঞ্চল মানুষদের জীবনমান উন্নয়ন ও শিশুদের লেখাপড়ার জন্য স্বপ্ন দেখেন একটি আদর্শ স্কুল গড়ার।

এর মধ্যে মন্ডলবাড়ীর মেয়ে আরিফা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে মাটির টানে ফিরে আসেন শিকড়ে। । এখন একটা চাকরি তারপর বিয়ে। কিন্ত বাবা আর চাচারা মিলে মেয়েটিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখলেন ভিন্ন। কোন চাকরি নয়। নিজেরাই রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দের উজানচরে পূর্ব পুরুষের জমির উপর গড়ে তুললেন একটি হাই স্কুল। মেয়েটিকে দেয়া হলো প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব।

পরিবারের বড় মানুষটির নামে স্কুলের নামকরণ করা হলো ‘সাহাজ উদ্দিন মন্ডল হাই স্কুল’। শহরের আলো বাতাসে বড় হওয়া মেয়েটি
চলে এলো অজপাড়াগাঁয়ের ধূধূ বালুচরে।

তখন চরে বৈদ্যুতিক আলোর কথা চিন্তাও করা যেত না। রাতের বেলা মাটির কূপি আর হেরিকেনের আলো। রাস্তাঘাট বলতে ছনের বন আর ক্ষেতের মধ্য দিয়ে সরু পথ। দূরে দূরে ঘরবাড়ি আর রাতের বেলা শেয়ালের ডাক।

বালুচরের দরিদ্র কৃষক পরিবারের শিশু-কিশোরেরা
মাঠে কাজ করে আর মরা পদ্মায় মাছ ধরে।
মেয়েটির বাবা- চাচাদের আদেশ এখানেই জ্বালাতে হবে শিক্ষার আলো। শুরু হলো মেয়েটির সংগ্রাম।
বালুচরে রাত্রি যাপন আর সারাচর ঘুরে ঘুরে অভিভাবকদের অনুনয় বিনয় করে তাদের শিশুদের স্কুলমুখী করা। সে এক কঠিন কাজ। কিন্ত মেয়েটি থেমে যায়নি।চলতে থাকলো তার পথ চলা। শেষে মেয়েটি জয়ী হলো। তার হাতে গড়া স্কুলটি এখন রাজবাড়ী জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৫ সালে মাত্র পয়ত্রিশজন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু করলেও আজ শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাচঁশতাধিক। সংগ্রামী মেয়েটি অর্জন করেছে শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকার পুরস্কার সহ জয়িতা পদক।

বিদ্যালয়ের শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ, লেখাপড়ার মান নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা পদ্ধতি ও সুষ্ঠু পরিচালনায় এগিয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চলে বাতিঘর খ্যাত ” সাহাজউদ্দিন মন্ডল ইনস্টিটিউট।

( লেখক, সম্পাদক ও প্রকাশক – রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ, প্রতিষ্ঠাতা – গাজী সাইফুল ইসলাম বিদ্যানিকেতন।
কৃতার্থায়, কবি নিজাম আহমেদ)

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg