শিরোনাম
গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান রাজবাড়ীতে শেখ হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মানি বিতরণ অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে জরিমানা, ৭টি ড্রেজার জব্দ গোয়ালন্দে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ এমপি কন্যা চৈতীর উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে শেষ হলো রাজবাড়ী সার্কেল আয়োজিত ইসলামিক কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২১ করোনা ভাইরাস থেকে পরিত্রাণের জন্য রাজবাড়ী সার্কেলের বিশেষ দোয়া মাহফিল গোয়ালন্দে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার নতুন পোশাক পেল সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা দৌলতদিয়ায় হেরোইনসহ ৩ জন আটক রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান আদালতে ব্যবসায়ীসহ ৫জনকে অর্থ জরিমানা পশ্চিম আকাশে চাঁদ দেখা গিয়াছে, আগামীকাল থেকে রোজা শুরু 

দুই উপজেলার দুই ইউএনও’র বিরুদ্ধে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ

রনি মন্ডল | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১৮৯ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১

0Shares

 

সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।
মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস (২৬) মার্চ উদযাপন উপলক্ষ্যে মানিকগঞ্জ দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বর্তমান সরকার দেশব্যাপী নানা রকম কর্মসুচী হাতে নিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে প্রত্যেক জেলা উপজেলা পর্যায়ে চলছে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর প্রামাণ্য চিত্র, বঙ্গবন্ধুর উপর শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সহ বিভিন্ন ধরনের আয়োজন।
৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই লাল সবুজের বাংলাদেশে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের নামে বিভিন্ন হাট-বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ইটভাটা সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চলছে দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চাঁদাবাজির মহোৎসব।
জানা গেছে, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরুল হাসান উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের ডেকে এনে মিটিং করে প্রত্যেক বাজার থেকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দাবি করেছে। ইউএনও’র নির্দেশ মোতাবেক প্রত্যেকটি বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় মাতব্বররা বাজারের চায়ের দোকান, পানের দোকান, সেলুন, মুদি ব্যবসায়ী, তৈরি পোশাকের দোকান, ফার্মেসী, জুয়েলারি দোকান, খাবার হোটেল, স’মিল, ও এনজিও সহ সকল প্রকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলছে। এসব চাঁদা সংগ্রহ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফান্ডে জমা দিচ্ছে তারা। যে সমস্ত দোকানদার বা ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে রাজি হয়নি তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
অপরদিকে, হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম উপজেলার ৩টি অবৈধ ইটভাটা থেকে মহান স্বাধীনতা দিবস পালনের নামে প্রতিটি ইটভাটা থেকে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। গত বছর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ওই ইট ভাটাগুলো থেকেও চাঁদা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতপুর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও চকমিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান হবি বিভিন্ন দোকেন দোকানে গিয়ে স্বাধীনতা দিবস পালনের কথা বলে চাঁদা তুলছেন। তিনি নিজেকে দেশের নিষিদ্ধ সংগঠন হেজবুত তাওহীদের মুখপাত্র বজ্রশক্তি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জানান, স্বাধীনতা দিবস পালন করতে ইউএনও’র নির্দেশে বাজারের প্রতিটি দোকান থেকে চাঁদা তুলছি। এই চাঁদার টাকা দিয়েই ইউএনও স্যারের সাথে সমন্বয় করে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হবে। এছাড়া উপজেলার কয়েকটি বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ইউএনও’র নির্দেশে হাট-বাজারের বিভিন্ন দোকান থেকে চাঁদা তোলার বিষয়ে সহজ স্বীকারোক্তি দেন।
দৌলতপুর বাজারের অর্ধশতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, স্বাধীনতা দিবস পালনের কথা বলে আমাদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। দোকান ভেদে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা চাইছে তারা। চাঁদা না দিতে চাইলে আমাদের দোকানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে অথবা দোকান ভেঙ্গে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। কারো কারো কাছ থেকে আরো বেশি চাঁদা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানান, ইউএনও স্যার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বাজার থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিল। আমি নানা দেনদরবার করে ৬ হাজার টাকা দিয়েছি। এ নিয়ে ইউএনও স্যারের সাথে আমার অনেক কথা কাটাকাটি হয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, স্বাধীনতা দিবস পালন করতে আমরা নিজেরাই বাজার থেকে টাকা তুলে ইউএনও স্যারের কাছে জমা দিব। একটু আমোদ ফুর্তি করার জন্য বাজার থেকে এসব টাকা তুলছি। স্থানীয় সাংবাদিক শাহ আলমও বিষয়টা জানে।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস বা অন্য কোন দিবস উপলক্ষ্যে আমি কারো কাছ থেকে কোন চাঁদা বা টাকা চাইনি। বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে কেউ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে কিছু দিতে চাইলে সেটা নেওয়া হয়।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরুল হাসান বলেন, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে কারো কাছে কোন চাঁদা চাওয়া হয়নি। সরকার কর্তৃক বাজেট কম হওয়ায় বিভিন্ন হাট-বাজার কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, বিত্তশালী ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের নিয়ে রেজুলেশন করে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, মহান স্বাধৗনতা দিবস উপলক্ষ্যে ইউএনও’দের চাঁদা তোলার বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস বলেন, চাঁদা তোলার বিষয়ে আমি কোন অভিযোগ পাইনি। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg