বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুশাহাটা চরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত শিশুরা

জহুরুল ইসলাম হালিম | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৯২ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১

সংবাদটি শেয়ার করুন

জহুরুল ইসলাম হালিমঃ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত চারদিকে পদ্মা ও যমুনা নদী দ্বারা বেস্টিত বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুশাহাটা চরের কথা। আম্বিয়া আক্তার বয়স ১০ বছর পরিবারে অর্থনৈতিক দৈণ্যতা থাকলেও লেখা-পড়ার প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক থাকায়, বড় বোনের বাড়ি থেকে ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়া লেখা করেছে। অতঃপর সেখানেও দেখা দেয় অর্থনৈতিক দৈণ্যতা তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই ফিরে আসতে হয় নিজের বাড়িতে। আসার পর পড়াশোনা করার ইচ্ছা থাকলেও আর পড়া লেখা করা সম্ভব হয়নি। কারণ এই চরে নেই কোন বিদ্যালয়। এখন সংসারের কাজ করেই দিন কাটে আম্বিয়ার। আম্বিয়ার মত কুশাহাটা চরের মিম, সাকিবসহ এমন অসংখ্য শিশুর দুঃখগাঁথা গল্পও ঠিক একই রকম। বিদ্যালয়ের অভাবে এখানকার শিশুরা দিন দিন নিরক্ষর জনগোষ্ঠিতে পরিনত হচ্ছে।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য সেবা থেকেও বঞ্চিত এখানকার মানুষ। অত্যান্ত দরিদ্র এই পরিবারগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশনসহ সকল নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পরা চরবাসীর মধ্যে আধুনিকতার ছোঁয়া পড়েনি এখনো। দুর্গম চর হবার কারণে এখানে পৌছায়নি রাষ্ট্রের কোন সুযোগ-সুবিধা। আর তাইতো প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও অসুস্থ্য হলে মৃত্যু ছাড়া নেই কোন উপায়। নেই শিশুদের জন্য সুস্বাস্থ্য ও সুশিক্ষার কোন ব্যবস্থা। নুন্যতম মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে।

যেখানে হাজারেরও অধিক মানুষের বসবাস। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট থেকে সাত কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে পদ্মা নদীর মাঝে অবস্থিত। যেখানে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ইঞ্জিন চালিত ট্রলার। কুশাহাটা চরে ১৫০টি পরিবারের বাস। কৃষি কাজ ও মাছ ধরা এখানকার মানুষের অন্যতম পেশা। গ্রামটিতে নেই কোন বাজার। বেচাকেনা ও কেনাকাটা করতে যেতে হয় মানিকগঞ্জের আরিচা, পাবনার কাজিরহাট আর নিজ ইউনিয়নের দৌলতদিয়া বাজার। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় ফসলের ন্যয্য দাম যেমন পায় না তেমনি কেনাকাটায় ব্যায় করতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। এভাবেই ঝড়-বৃষ্টি ও নদীর সাথে যুদ্ধ করেই চলে তাদের জীবন-জীবিকা।

স্থানীয়রা জানায়, এই দ্বীপে বসবাস করা সহস্রাধিক মানুষ এই দেশের নাগরিক হলেও আমাদের শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ নূন্যতম কোন নাগরিক সুবিধা নেই। নেই কোন স্কুল, কলেজ যার ফলে শিশুরা দিন দিন নিরক্ষরতায় ডুবে যাচ্ছে। নেই স্বাস্থ্য সেবা নেয়ার মত কোন উপায় এর কারণে অসুখ বিসুখ হলে মৃত্যু ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এভাবেই আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জিবন-যাপন করছি।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল বলেন, এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম মহাদ্বয়ের সাথে আমার কথা হয়েছে যত তারাতারি সম্ভব সেখানে একটি স্কুল এবং একটি স্যাটেলাইট ক্লিনিক করার পরিকল্পনা আছে ।

জেলা প্রশাসক দিলশাদ বেগম বলেন, সেখানে মা, শিশু স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে আমাদের সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলে এবং যত দ্রুত সম্ভব কুশাহাটা চরের মানুষের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা করা হবে।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg