গোয়ালন্দে আগুনে পুড়ে নিঃস্ব মমতাজের পরিবার; ২২ দিন ধরে জীবন কাটছে খোলা আকাশের নিচে

নিউজ ডেস্ক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৩০৬ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০২১

0Shares

জহুরুল ইসলাম হালিমঃ
আগুনে পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে স্বামী-সন্তান নিয়ে মমতাজ বেগমের (৩৫) মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু। সবকিছু হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব,সর্বশান্ত। অভাবের কড়া নাড়ছে তার দুয়ারে।

গত ২২ দিন ধরে স্বামী ও অবুঝ দুটি সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে তিনি আহাজারি করছেন। কিন্তু অদ্যবধি তাদের পাশে সেভাবে দাঁড়ায়নি কেউ।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮ টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ছাহের মন্ডল পাড়ায় অগ্নিকান্ডের এ ঘটনাটি ঘটে।

মমতাজ বেগম ওই গ্রামের দরিদ্র রিক্সাচালক আলমাস শেখের স্ত্রী। আগুনে তার থাকার ২ টি ছাপড়া ঘর, একটি রান্না ঘর, ৪ টি ছাগল, আশা এনজিও থেকে নেয়া ঋনের ৫০ হাজার টাকা, বসবাসের জন্য জমির দলিলপত্র, ধান, চাল, স্বামী -স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র,বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন সনদ, কাপড়-চোপর ও গাছ-পালাসহ সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

আগুন লাগার দিন স্থানীয়রা গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলেও ঘটনাস্থলে পৌছাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের লোকজন। সরু রাস্তা হওয়ার কারনে জামতলা হাইস্কুলের পাশ দিয়ে মমতাজের বাড়ীতে পৌছাতে পারেনি ফায়ার ম্যানের লোকজন।

খবর পেয়ে স্থানীয় সাধারণ ও নারী ইউ পি সদস্য এসে মমতাজকে ৫’শ টাকা করে সাহায্য করেন ও ইউপি চেয়ারম্যান ১০ কেজি চালসহ কিছু ত্রান সামগ্রী পাঠান।
এতে মমতাজের দু’মুঠো খাবার জুটলেও বাসস্থানের ব্যবস্থা করার ব্যপারে এগিয়ে আসেননি কেউ। মমতাজ এখন কি করবেন, স্বামী-সন্তানদেকে নিয়ে কোথায় থাকবেন? দিশেহারা হয়ে গেছেন মমতাজ।

৪ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ৫ শতকের শূন্য ভিটেতে দুটো সন্তান নিয়ে কান্নাকাটি করছেন মমতাজ। স্বামী ফরিদপুর শহরে রিক্সা চালান।আশপাশের লোকজন যে যা দেয় তাই খেয়ে অতি কষ্টে তাদের দিনরাত কাটছে। রাতে পাশের একটি বাড়ির রান্নাঘরে গিয়ে সন্তান দুটিকে নিয়ে ঘুমান।

এ সময় তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, এক বছর আগে অনেক ধার-দেনা করে বড় মেয়েটিকে বিয়ে দেই।কোনভাবেই দেনা পরিশোধ করতে পারছিলাম না। তাই পাওনাদারদের চাপে আগুন লাগার আগেরদিন আশা এনজিও হতে ৫০ হাজার টাকা ঋন নেই। কাউকে একটি টাকাও দিতে পারিনি। এরমধ্যেই সবশেষ হয়ে গেল। এখন আমাদের কি হবে, কিভাবেই বা এত টাকা শোধ দেব!

এ নিয়ে কথা বলতে উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফকিরের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওনা যায় নি। মুঠোফোনও বন্ধ থাকায় তার সাথে কথা বলা যায় নি।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকান্ডের বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। তবে খোঁজ নিয়ে ওই অসহায় পরিবারটির জন্য সম্ভাব্য সব কিছুই করার চেষ্টা করবো।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg