রাতের আঁধারে কাটা হচ্ছে গাছ, মাটি, নিশ্চুপ প্রশাসন

জহুরুল ইসলাম হালিম | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১১১ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চর-আফড়া নামক এলাকা থেকে রাতের আঁধারে রাস্তার দুপাশে থাকা গাছ ও মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের একটি চক্র। এছাড়াও চর আফড়া থেকে মন্ডল মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুপাশের মাটি রাতের আধারে কেটে নেওয়া হচ্ছে। নিরব ভূমিকায় প্রশাসন, এ জেনো দেখার কেউ নেই।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হাবসপুরের চর-আফড়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হাবাসপুর ইউনিয়নের চর-আফড়ার চলাচলের আঞ্চলিক সড়কের ১.৫ কিলোমিটারের পাশে থাকা কাঠ ও ফল গাছ সহ নেই কোনো প্রকার গাছ। এছাড়াও রাস্তার পাশের মাটি কাটার প্রমাণ মিলেছে, দেখলেই মনে হয় রাতের আঁধারের মাটি খেকোদের থাবা পরেছে স্থানটিতে।

এব্যাপারে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র ফজলু মেম্বার, সবুজ মেম্বার, কাসেম, মতিন, সেলিম, মানজু, বাহারুল, আমিরুল, আসলাম প্রমুখ রাস্তার গাছ ও মাটি কাটার নেতৃত্ব দেন। তাদের নেতৃত্বের জোরে কর্মীরা দিনের পর দিন সড়কের পাশে থাকা গাছ কেটে পরিবেশকে হূমকির সম্মুখীন দাঁড় করাচ্ছে। ঠিক একইভাবে করছে ভূমির অবক্ষয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এই রাস্তার পাশের প্রায় ১-১.৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা মেহগনি, শিশু ও কাঁঠাল গাছ রাতের অন্ধকারে কাটা হয়। কিছু গাছের ডাল পালা কাটা রয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন এই গুলো রাতে কেটে নিয়ে যাবে সে জন্য ডাল পালা কাটা রয়েছে। তিনি আরো বলেন এই রাস্তার থেকে প্রায় ৩-৪ লাখ টাকার গাছ কেটে নিয়ে গেছে। এ ছাড়াও রাস্তার পাশের মাটি কেটে নিয়ে যায় রাতে, এতে ব্যাবহার করে ২০-৩০ টি ড্রাম ট্রাক, এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ গাড়ি মাটি কাটা হয়।

এছাড়াও উক্ত এলাকার একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেছে যে, গাছ ও মাটি কাটায় বাধা দিতে গেলে স্থানীয়দের উপর হুমকি দিচ্ছে প্রভাবশালী চক্র। তবে প্রশাসন এদিকে নজর দিচ্ছেনা এবং কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছেনা।

গত কয়েকদিন উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি কোনো কর্মকর্তাকে। এব্যাপারে উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এস এম ইকবাল ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুল ইসলামের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি তাদের জানা ছিলনা এধরণের কোনো কাজ হয়ে থাকলে অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে কার্য সহকারী হাসানুল আবেদিন (রতন) জানান, বিষয়টি আমরা জানার সাথে সাথেই পদক্ষেপ নিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি এবং মাটি বিক্রি করেছে প্রজেক্টের সাথে সংশ্লিষ্টরা। এর সাথে ইউপি সদস্য ফজলুর কোনো প্রকার যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তার জড়িত থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে। এখানে প্রজেক্টের কার্য সহকারীদের মতের সাথে মিল পাওয়া যায়নি উপ-সহকারী প্রকৌশলী কিংবা বিভাগীয় প্রকৌশলীর মন্তব্যের।

উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য মতে শুধু মাত্র হাবাসপুরে নদী খননের জন্য ১কোটি ২২ লক্ষ টাকার একটি টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। তবে কেন রাতের আধারে কাটা হচ্ছে গাছ ও মাটি আর এব্যাপারে কতোটা কার্যকরী ভূমিকা রাখবে প্রশাসন?

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg