গোয়ালন্দে আলমাছ নামে এক ব্যক্তির বস্তাবন্দি গলা কাটা লাশ উদ্ধার

রনি মন্ডল | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ২০৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০

সংবাদটি শেয়ার করুন

জহুরুল ইসলাম হালিম//
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আলমাছ খাঁন (৪০) নামের এক ব্যক্তির বস্তাবন্দি গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। সে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের শাহাজুদ্দিন মাতব্বর পাড়ার মৃত বাবু খাঁনের ছেলে। আলমাছ ৭ ভাই বোনের মধ্যে চতুর্থ। সে চার কন্যা সন্তানের জনক।
রবিবার দুপুরে আলমাছের বড়ভাই ইদ্রিসের বাড়ীর পাশে ওই গ্রামের সাত্তার মোল্লার পরিত্যক্ত পুকুর পাড় হতে বস্তাবন্দি লাশটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আলমাছ খাঁনের স্ত্রী রাহেলা বেগম অভিযোগে বলেন, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাড়ির একটি টিনের ছাপড়া ঘরে তার স্বামীসহ স্থানীয় তোতা ও মুরাদ নামের তিনজনকে হেরোইন সেবন করতে দেখেন। ঘন্টা খানেক পর আবার গিয়ে দেখেন তারা কেউ নেই। রাতে মোবাইলে ফোন করলেও ধরেনি। রোববার সকালে প্রতিবেশী ভাস্তি জামাই রাহিদুলকে ডেকে খোঁজ করতে বললে তোতাকে জিজ্ঞাসা করলে জানায়, রাতে স্থানীয় সেলিম শেখ ফোনে আলমাছকে ডেকে নেয়। রাতেই তোতা, মুরাদ আর আলমাছ সেলিমদের স্থানীয় জিন্নাহর দোকানে গিয়ে বসলে সেলিম আমাদের রেখে আলমাছকে নিয়ে বাড়ির ভিতর যায়। প্রায় এক ঘন্টা পার হলেও আলমাছ ফিরে না আসায় তোতা আর মুরাদ আলমাছের বাড়ি খোঁজ নেয়। বাড়িতেও না থাকায় ফিরে যায়।

তিনি আরো বলেন, সকালে সেলিমের বাড়ি গিয়ে আলমাছ কোথায় জিজ্ঞাসা করলে জানায় তিন দিন আমার সাথে আলমাছের দেখা হয়না। অথচ রাতে তোতা সব খুলে বলেছে। সেলিম তাকে ফোন করে ডেকে নিয়েছে। দুপুরে সেলিমের বাড়ির সামনে স্থানীয় ছাত্তার মোল্লার বাড়ি সংলগ্ন পরিত্যক্ত পুকুরে বস্তা ভর্তি লাশ উদ্ধার করে। তিনি অভিযোগ করেন, বেকারী মালিক আজিজুল বেপারীর কাছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা পাই। টাকার জন্য বার বার তাগিদ দিলে আজিজুল ক্ষিপ্ত হয়। ধারণা আজিজুল, সেলিম সহ আমার স্বামীর সাথে যারা নেশা করে তারা হত্যার সাথে জড়িত। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেলিম শেখ (৩০), বেকারি মালিক আজিজুল খান (৪০) এবং আজিজুল খানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে (৩৫) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।

স্থানীয় সাত্তার মোল্লা জানান, রবিবার দুপুরে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে একটা বস্তা পড়ে থাকতে দেখি, বস্তাটি মরা মুরগী বোঝাই মনে করে পুকুর পাড়ে পুতে ফেলার জন্য গর্ত করি কিন্তু বস্তা গর্তে ফেলার জন্য টান দিলে হাত পা বেড়িয়ে আসে, তা দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্য চুন্নুকে ফোন দেই। তিনি ঘটনাস্থলে এসে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে এবং এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ জনকে আটক করে।
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, আলমাছ খাঁনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এর বিশেষ কোন কারণ জানা না গেলেও সে মাদকাসক্ত ছিল বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩জনকে আটক করা হয়েছে। রাজবাড়ীর সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরিফুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg