শিরোনাম
গোয়ালন্দে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল ও ইয়াবাসহ আটক ৫ আইনপ্রণেতা হয়ে নিজেই আইন লঙ্ঘন করলেন এমপি মমতাজ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ গোয়ালন্দ সরকারি হাসপাতালে মসজিদে জমি দান করায় বাবাকে হাতুড়িপেটা করে নির্মমভাবে হত্যা গোয়ালন্দে ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রাজনীতিকে বিদায় জানালেন ছাত্রলীগ নেতা দুধ বিক্রি না করায় কৃষককে পেটালেন আ.লীগ নেতা ঢাকাসহ ১৩ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষ ভাড়া নিয়ে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ! ব্যাহত হচ্ছে স্কুলের পাঠদান। মানিকগঞ্জে পাসপোর্ট করতে এসে দালালসহ রোহিঙ্গা নারী আটক

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে বকশিস নামের চাঁদাবাজি, বাদ যায় না এ্যাম্বুলেন্স ও লাশের গাড়িও

নিউজ ডেস্ক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৩২৭ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০

0Shares

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি||

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে নানা সমস্যার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময়ই যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি লেগেই থাকে। নানা অসংগতি ও অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পরিচয়পত্র ব্যবহার না করে যাত্রীদের সাথে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা করে থাকে ঘাট এলাকার একটি অসাধু চক্র। ফেরীতে জুয়ার ফাঁদ, যাত্রীবাহী বাসের ভুয়া টিকিট বিক্রি, ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য সহ বকশিসের নামে দিতে হয় নগদ টাকা।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া প্রান্ত থেকে ফেরীতে গাড়ী পার্কিং করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডটিসি) কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পদ্মা পাড়ি দিয়ে দৌলতদিয়া ফেরি থেকে নামার সময় প্রতি গাড়ী থেকে নেওয়া হয় ১০ টাকা করে বকশিস। বকশিস নেওয়া থেকে বাদ যায়না রোগীবাহী এ্যাম্বুলেন্স ও লাশের স্বজনদের গাড়ীও। বকশিস নামে চাঁদা না দিলে খারাপ আচরণ করে ফেরিতে দায়িত্ব পালনরত এসব কর্মচারীরা। বকশিস নামে চাঁদা যেন একটি প্রথায় পরিণত হয়েছে। উভয় প্রান্তেই ঘটে এমন ঘটনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চালক জানান, ‘বকশিস যেন একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে দৌলতদিয়া ঘাটে। বকশিস না দিলে খারাপ ব্যবহার করেন তারা। যাত্রীরা বলেন দৌলতদিয়া ঘাটে কারা টাকা নেয় সেটা চেনা যায় না। বিশেষ করে আইডি কার্ড প্রদর্শন না করা সহ সুনিদিষ্ট পোশাক না থাকার কারণে অনেক সময় তাদের টাকা গচ্ছা যায়। অনেক সময় না বুঝে অসাধু চক্রের নিকট থেকে জাল টিকিট ক্রয় করে হয়রানির শিকারও হতে হয়।’

বিআইডব্লিউটিসির একটি সূত্র জানায়, “দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার গাড়ী পারাপার হয়। সেই হিসাবে ১০টাকা করে নিলে প্রতিদিন ২০হাজার টাকা আদায় হয়, মাস শেষে সেটি দাঁড়ায় ৬ লক্ষ টাকা, অর্থাৎ উভয় পারে প্রতিমাসে ১২ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়”

বকশিস আদায়কারীদের দাবী, ‘ফেরিতে গাড়ী সিরিয়াল করার জন্য চালকদের কাছ থেকে তারা ১০টাকা করে চেয়ে নেন। কেউ খুশি হলে দেয় আবার কেউ কেউ দেয় না।’

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, ‘এই বিষয়টি বিআইডব্লিউটিসির অন্য একটি বিভাগের যে কারণে আমি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করবো না।’

বিআইডব্লিউটিস আরিচা কার্যালয়ের মেরিন বিভাগের (এজিএম) মো. আব্দুস সাত্তার মিয়া বকশিসেরর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,“দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা বলে এটি নেওয়া হয়। তাছাড়া তারা কম বেতন পায় বলে এটি নিয়ে থাকে। তবে লাশের গাড়ী থেকে মানবিক দিক বিবেচনা করে টাকা নেওয়া হয় না যদি কেউ নিয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসির) কার্গো ও ফেরী বিভাগের জিএম (কমার্স) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, বকশিস নেবার কোন সুযোগ নেই। বকশিসের বিষয় বন্ধের ব্যাপারে তিনি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়াতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg