গােয়ালন্দের চারণকবি গৌর সাধুর সংকটাপন্ন জীবন, বিত্তবানদের সহায়তা কামনা

নিউজ ডেস্ক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১২৫ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 108
    Shares

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার অসাম্প্রদায়িক চেতনার সুরস্রষ্টা, চারণকবি গৌড় গোস্বামী (৮২)। যাকে সবাই গৌর সাধু হিসেবে চেনেন। পদাবলী সুর ও সংগীতে গুরুপদে আসীন হওয়ায় তিনি ভক্তবৃন্দের কাছ থেকেই গোস্বামী উপাধি লাভ করেন। তিনি নিজে প্রায় ২০০ গান রচনা করে সুর করে দর্শক স্রোতার মন জয় করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য জনিত কারণে তিনি অসুস্থ্য হয়ে ঘরে পড়ে আছেন। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ড বিশম্ভ কবিরাজ পাড়ার কুঞ্জলাল রায় ও রঙ্গদেবী দম্পতির সন্তান তিনি। বর্তমানে তিনি গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় বিন্দুপাড়া কোন রকমে মাথা গোজার ঠাঁই করে নিয়েছেন। পরিবারের সাথে সেখানেই বাস করছেন।
আলাপকালে গৌর সাধু জানান, প্রায় ৬০ বছর ধরে তিনি কীর্তন গান করছেন। পদাবলী ও অষ্টকালীন গান গেয়ে এক সময় হাজারো দর্শকের মন জয় করেছেন। তাঁর সুদীর্ঘ জীবনে ৬ হাজার ৭৬৫ টি পালাগান নিজের কন্ঠে গেয়েছেন বলে জানান। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতের শরনার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম এবং সাহস জাগ্রত করতে বাহাদুরপুর ক্যাম্প, কল্যাণী ক্যাম্পে গিয়ে গান রচনা করে নিজে কীর্তনীয়া দল গঠন করে গান গেয়ে শরনার্থীদের মনে শক্তি এবং সাহস যুগিয়েছিলেন। তাঁর রচিত গান গুলোর মধ্যে একটি “আয়রে তোরা বাংলা দেখতে যাই, রবি ঠাকুরের সোনার বাংলা জ্বলে পুইড়া হইলো ছাই, আয়রে তোরা বাংলা দেখতে যাই” ওই সময় এ গানটি খুবই প্রচলিত ছিল। এমন অনেক গান গেয়ে ভীত এবং অসহায় শরনার্থীদের মনে তিনি প্রাণের সঞ্চার জাগিয়ে তুলতেন।

তাঁর বন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, গৌর সাধু পদাবলী কীর্তন করে এক সময় হাজারো মানুষের মন কেড়ে নিয়েছেন। তাঁর মধুর কন্ঠে ও সুরে ভক্তকুলের হৃদয়ে জাগাতেন পার্থিব জগতের পবিত্র ভাবনা। তাঁর কন্ঠে যাদুর সুর ও ছন্দে ভারত, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মন মাঝারে উন্মাদনার ঢেউ জাগিয়ে তুলতেন। তাঁর সুরের মূর্ছনায় আত্মহারা হয়ে যেত আসরের শত শত ভক্তবৃন্দ। অগণিত দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করা এমন গুণী শিল্পী আজ যেন জীবনযুদ্ধে পরাজিত সৈনিক। অর্থের অভাবে তাঁর সুচিকিৎসা হচ্ছে না। তাই নিরবে নিভৃতে বদ্ধ ঘরে একাকি বসে ফেলে আসা সেই সকল মধুছন্দা দিনগুলোর কথা ভেবেই বেদনার অশ্রু ঝড়ে।

অর্থের অভাবে এমন একজন গুণী মানুষের হৃদয়ে দোলা দেওয়া সুরের মানুষটি তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছে অথচ কারও যেন ভ্রুক্ষেপই নাই।

স্থানীয় অনেকে জানায়, যিনি সব সময় হাজারো মানুষের ভিড়ে থেকে সকলের মধ্যমণি হয়ে থাকতেন। আজ হাজার দুঃখের দিনেও কেউ যেন তাঁর পাশে নেই। নিরবচ্ছিন্ন ঘরে একা একা সময় কাটান। কখন দিন আসে কখন রাত হয় টেরও পায় না। নীরবে নিভৃতে বদ্ধ ঘরে আলো-আধাঁরিতে বসে বসে তিনি যেন মরণের দিন গুনছেন। ভরসা তার একমাত্র ছেলে, সে সামান্য কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন।

তাঁর স্ত্রীর পূর্ণিমা রানী রায় জানান, তিনি করোনার মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে শরীরের জ্বর হয়, প্রাথমিক চিকিৎসায় জ্বর সেরে ওঠেনা। ধীরে ধীরে শরীর, পেট ফুলে যায়। পরবর্তীতে চেকাপে তাঁর লিভারে পানি জমেছে বলে চিকিৎসকরা জানায়। একমাত্র ছেলে গোবিন্দ রায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করে যে সামান্য টাকা পায়, তা দিয়ে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তাই তিনি স্বামীকে সুস্থ করতে সমাজের বিত্তবানদের কাছে উদাত্ত আহব্বান জানিয়েছেন।
তার মোবাইল নম্বরঃ
01734329561

ব্যাংক হিসাব নাম্বার,
বিশ্বাস আইটি ওয়ার্ল্ড-২০৫০৭৭৭০১০২৮৪৮৩১৪, ইসলামী ব্যাংক, গোয়ালন্দ এজেন্ট শাখা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর