শিরোনাম
সার্কেল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজবাড়ী সদরের উড়াকান্দা বাজারে মানবতার দেওয়াল শাজাহান হোসেন মনির ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ সার্কেল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বালিয়াকান্দিতে মানবতার দেওয়াল রাজবাড়ীতে নৈশ মিনি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত বহরপুরে জাটকা বিক্রয়ে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা আগামীকাল থেকে এসএসসি’র রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ পাংশাতে পরোয়ানা ভুক্ত আসামী গ্রেফতার মাগুরা থেকে আসা যুবকের‘সড়ক দুর্ঘটনায়’গোয়ালন্দে মৃত্যু পদ্মা পাড়ে মাটি কাটতে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা গোয়ালন্দে মাস্ক না পরায় ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা

শোকাবহ জেলহত্যা দিবস আজ

নিউজ ডেস্ক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৪০ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 11
    Shares

আজ তিন নভেম্বর, শোকাবহ জেলহত্যা দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে এক কলঙ্কময় দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম. মুনসুর আলী ও এইচ.এম কামারুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাত্রিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর এই জাতীয় চার নেতাকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এই জাতীয় চার নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ও চেতনাকে নির্মূল করা।
প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমগ্র বাঙালি জাতির সঙ্গে সশ্রদ্ধচিত্তে শোকাবহ এ দিবসটিকে স্মরণ ও পালন করবে। এ লক্ষ্যে দলটি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জেলহত্যা দিবসে সীমিত পরিসরে নানা কর্মসূচি পালিত হবে। কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে উপস্থিত থাকবেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

জেল হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঘাতক চক্রের উদ্দেশ্য ছিল দেশে অগণতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের উত্থানের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে মুছে ফেলা। কিন্তু তাদের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার আদর্শ চির অম্লান থাকবে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ৩ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিন। কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড ছিল জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতা। এ ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি, দেশবিরোধী চক্র বাংলার মাটি থেকে আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। আমরা জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারকাজ সম্পন্ন করেছি। জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচারও সম্পন্ন হয়েছে।

কর্মসূচি

আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে আজ মঙ্গলবার সূর্য উদয় ক্ষণে ভবন ও দলীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র সংগঠনের শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন।

সকাল ৮টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবে আওয়ামী লীগ। এছাড়া ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনসহ মহানগরের প্রতিটি শাখার নেতাকর্মীরা যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। সকাল পৌনে ৯টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের কালরাতে নিহত সব শহিদ ও কারাগারে নির্মমভাবে নিহত জাতীয় নেতৃবৃন্দের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত হবে।

জাতীয় চার নেতার প্রতি জেপির শ্রদ্ধা

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে শাহাদতবরণকারী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসা জানিয়েছেন।

এক যৌথ বিবৃতিতে জেপির নেতৃদ্বয় বলেন, বঙ্গন্ধুর অনুপস্থিতে এই জাতীয় চার নেতা, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এবং মন্ত্রী হিসাবে এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের সদস্য হিসেবে দেশ এবং জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

সেদিন তারা অসীম সাহসিকতা ও দক্ষতার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ এবং সরকার পরিচালনা করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ঘাতকরা জাতীয় চার নেতাকে কারাগারের অভ্যন্তরে ইতিহাসের এক নৃশংসতম অধ্যায় সংযোজন করে হত্যা করে। আমরা মনে করি জাতীয় এই চার নেতার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দেশমাতৃকা সেদিন তার গৌরবদৃপ্ত সন্তানকে হারিয়েছিল।

আমরা জাতীয় এই চার নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলতে চাই, যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং অশুভ শক্তির কাছে মাথানত করেননি তারা আমাদের কাছে চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাদের এই দেশপ্রেম এবং আদর্শের প্রতি আনুগত্য আমাদের চলার পথে সাহায্য করবে। জেপি নেতৃদ্বয় বলেন, আমরা এই জাতীয় চার নেতার রুহের মাগফেরাত কামনা করি এবং পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তারা যেন জান্নাতবাসী হন।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর