শিরোনাম
গোয়ালন্দে একদিনে নারীসহ ১৩ আসামি গ্রেপ্তার পাটুরিয়া ঘাটে গাড়িসহ ফেরি ডুবি- এক ঘণ্টার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলার ইউএনও হলেন বাবলী- শিবালয়ে নিষিদ্ধ সময়ে যমুনার চরে দিনব্যাপী ইলিশের হাট দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে যৌনকর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার- গোয়ালন্দে কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহল মরাপদ্মায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বহিস্কার গোয়ালন্দে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আটক- গোয়ালন্দে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই জন আটক গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

রাজবাড়ীতে তুলে নিয়ে কিশোরীকে বিয়ে, কাজিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিউজ ডেস্ক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১৭৬ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০

0Shares

স্টাফ রিপোর্টার: বেড়াতে যাওয়ার পথে কিশোরীর তুলে নিয়ে, বয়স ১৮ বছর দেখিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মাহাবুবুর রহমানসহ আট জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
গত ১৮ অক্টোবর ওই কিশোরীর মা বাদি হয়ে রাজবাড়ীর ২নং আমলি আদালতে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের ৭(১)/৮/৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নিকাহ রেজিস্ট্রার মাহাবুবুর রহমান ছাড়াও বর, সাক্ষী ও বিয়ের উকিলদের আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি তদন্ত করার জন্য পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মেঘনা গ্রামের আ. মান্নান মোল্লার ছেলে শামীম মোল্লা, যশাই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মাহাবুবুর রহমান, মেঘনা গ্রামের শফিকুল ইসলাম, আতিয়ার মোল্লা, সাকদাহ গ্রামের নজরুল ইসলাম, লক্ষীপুর গ্রামের জামাল প্রামানিক, বলরামপুর গ্রামের ফজলু প্রামানিক ও নিভা এনায়েতপুর গ্রামের জাহিদুর রহমান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের প্রবাসীর মেয়ে ওই কিশোরী সমসপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষা শেষে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সে তার নানাবাড়ি পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মেঘনা গ্রামে বেড়ানোর উদ্দেশে রওনা হয়। পথে মাছপাড়া খামারপাড়ার মাঝামাঝি এলাকায় এলে শামীম মোল্লা ও তার সহযোগিরা ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে।
এরপর ওই রাতেই তারা তাকে যশাই ইউনিয়ন কাজী অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে রেজিস্ট্রি কাবিননামামূলে শামীম মোল্লার সাথে ওই কিশোরীকে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়েতে কাবিননামা করেন মামলার ২নং আসামি যশাই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মাহাবুবুর রহমান ও বিয়ে পড়ান মামলার ৮নং আসামি জাহিদুর রহমান। বিয়ের কাবিননামায় ছেলে ও মেয়ের সাক্ষী এবং উকিল হোন মামলার অন্যান্য আসামিরা। তারা সবাই শামীম মোল্লার পরিবারের লোকজন।
বিয়েতে ওই কিশোরীর বাবা-মা উপস্থিত না থাকলেও রহস্যজনকভাবে তাদের কথিতমতে কাবিননামায় কিশোরীর বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। অথচ ওই কিশোরীর জন্মসনদ অনুসারে সেদিন তার বয়স ছিলো ১৬ বছর ১মাস ১৭দিন।
নিকাহ রেজিস্ট্রার মাহাবুবুর রহমানের কাছে কাবিন রেজিস্ট্রার দেখতে চাইলে তিনি জানান, রেজিস্ট্রারটি তার সহযোগীর কাছে রয়েছে এবং এই বিয়ের কাবিননামা তিনি করেননি। তবে ইতোপূর্বে জাহিদুর রহমান নামে এক লোক তার কাছে রেজিস্ট্রি ফরম নিতে এসেছিলেন বলেও জানান তিনি।
একটি সূত্র জানায়, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের কাছে ২ থেকে ৩ টা কাবিন রেজিস্ট্রার থাকে। বাল্যবিবাহগুলো তারা ওই ২ ও ৩ নং রেজিস্ট্রারে করেন। ফলে মূল কাবিননামায় ওই বাল্যবিয়ের কোন প্রমাণ থাকে না। ফলে আইন থাকলেও তাদের এই চতুরতার কারণে বাল্যবিবাহ কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না।তবে এসব বিষয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের আইনের আওতায় আনা হলে সমাজ থেকে বাল্য বিবাহ রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg