দৌলতদিয়া বিআইডাব্লিউটিসির কাছে যেন অসহায় পণ্যবাহী ট্রাক চালককেরা

নিউজ ডেস্ক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১৬৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 224
    Shares

জহুরুল ইসলাম হালিম // রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। বিভিন্ন গাড়ির পাশাপাশি ওই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন
গড়ে সাড়ে চৌদ্দ’শ ছোট-বড় পণ্যবাহী ট্রাক ফেরিপার হয়। সেখানে বিআইডাব্লিউটিসির ফেরির টিকিট কাউন্টারে ট্রাক চালকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত টিকিটমূল্যের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকার ভেদে ট্রাকপ্রতি নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ৪০ থেকে ১৪০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।

এতে প্রতিদিন গড়ে ৮৩ (তিরাশি) হাজার টাকা হিসেবে প্রতি মাসে (৩০ দিন) প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিআইডাব্লিউটিসির লোকজন। এদিকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথ অচলাবস্থার প্রভাবে বিভিন্ন গাড়ির চাপ বাড়ে দৌলতদিয়া ঘাটে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সেখানে যাত্রীবাহী গাড়িগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ফেরিপারের অপেক্ষায় দিনের পর দিন আটকা পড়ে থাকছে।

গত শুক্র ও শনিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরোপয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ ক্যানেলঘাট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার ফোরলেন রাস্তার একপাশে ঢাকাগামী বিভিন্ন পণ্যবোঝাই ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের দীর্ঘ সারি। অপর দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী সদর থানার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় দৌলতদিয়া ঘাটগামী অপঁচনশীল পণ্যবোঝাই কয়েক শ ট্রাক আটকে রেখেছে ট্রফিকপুলিশ।

এতে গোয়ালন্দ মোড়-কুষ্টিয়া সড়কের রাজবাড়ী সদর থানার কল্যাণপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তায় ট্রাকের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়ে আছে। এ সময় গোয়ালন্দ মোড়ে কর্তব্যরত জেলা ট্রাফিক পুলিশের উপ-পরিদর্শক (টিএসআই) মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অপঁচনশীল পণ্যবোঝাই ওই ট্রাকগুলো সিরিয়ালে আটকে রাখা হচ্ছে। ঘাটপরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে ওই ট্রাকগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে। এদিকে বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট অফিস ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথ অচলাবস্থার প্রভাবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে বিভিন্ন গাড়ির চাপ বেড়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সেখানে যাত্রীবাহী গাড়িগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ফেরির টিকিটসিরিয়ালে আটকা পড়ে থাকছে। মাত্র তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ওই নৌপথ পাড়ি দিতে এসে ফেরিপারের অপেক্ষায় দিনের পর দিন সিরিয়ালে আটকে থাকায় সংশ্লিষ্ট ট্রাকের চালকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটে বিআইডাব্লিউটিসির ফেরির টিকিট কাউন্টার ঘিরে গড়ে ওঠা ট্রাকদালাল চক্রের দৌরাত্ম্য এখন আর আগের মতো নেই।

গোয়ালন্দ ঘাট থানাপুলিশের নিয়মিত অভিযানের মুখে দৌলতদিয়া ঘাটে দালালচক্রের লোকজন অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে।

তবে, পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে সেখানে দালালদের অনেকেই গোপনে সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন। গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, ৯ অক্টোবর থেকে গত শনিবার পর্যন্ত ষোল দিনে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা থেকে মোট ৩৮ জন ট্রাকদালালকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিপার হতে আসা ঢাকাগামী বিভিন্ন পন্যবাহী ট্রাকের কয়েকজন চালক জানান, বর্তমান এই ঘাটে আগের মতো কোন দালাল ধরতে হচ্ছে না। চালক অথবা চালকের সহকারি (হেলপার) সরাসরি বিআইডাব্লিউটিসির কাউন্টারে গিয়ে নিজ হাতে তারা ফেরির টিকিট কিনছেন। তবে কাউন্টারে ট্রাকচালকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফেরির টিকিটমূল্যের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বিআইডাব্লিউটিসির লোকজন। দৌলতদিয়া ঘাট টার্মিনালের ট্রাফিকমোড় এলাকায় অবস্থিত বিআইডাব্লিউটিসির টিকিট কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়,
কাউন্টারের সামনে ফেরিপার হতে আসা বিভিন্ন ট্রাকের চালক ও সহকারিদের ভির লেগে আছে।

টিকিট


সেখানে কর্তব্যরত আনছার সদস্য মাসুদ টিকিট কিনতে আসা চালকদের কাছ থেকে ট্রাকের ওজনস্লিপ (ওয়েব্রীজ স্কেল থেকে দেওয়া) ও টাকা নিচ্ছেন। পাশাপাশি কাউন্টারের ভিতর থেকে ফেরির টিকিট এনে সংশ্লিষ্ট চালকদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন তিনি। এ সময় উপস্থিত চালকদের অনেকেই জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরিপারাপারে পাঁচ টনী
একটি ট্রাকের টিকিটমূল্য এক হাজার ৬০ টাকা, ছোট ট্রাকের ৭৪০টাকা। অথচ বিআইডাব্লিউটিসির ওই কাউন্টার থেকে বড় ট্রাকপ্রতি অতিরিক্ত ৪০ টাকা ও ছোট ট্রাকপ্রতি অতিরিক্ত ১৪০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

ট্রাকচালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে এ সময় কাউন্টারে ফেরির টিকিট বিক্রিকাজে কর্মরত বিআইডাব্লিউটিসির কর্মচারি মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, ‘চা-পান খাওয়ার জন্য সামান্য কয়েক টাকা আমরা বেশি নিচ্ছি।’ কিছু দিন আগে থেকে অতিরিক্ত ওই টাকা নেয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে বিআইডাব্লিউটিসির দেওয়া তথ্যমতে, দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ঢাকামুখী যাত্রীবাহী
বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন গাড়ির পাশাপাশি প্রতিদিন (২৪ ঘন্টায়) গড়ে এক হাজার দুই শ (১,২০০) বড় ট্রাক ও আড়াই শ (২৫০) ছোট ট্রাক ফেরিপার হয়। সেই হিসেবে পণ্যবাহী ছোট-বড় ট্রাকের ফেরিভাড়ার টিকিট বিক্রিবাবদ প্রতিদিন গড়ে ৮৩ (তিরাশি) হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। প্রতি মাসে (৩০ দিন) সেখানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত চব্বিশ লক্ষ নব্বই হাজার (২৪,৯০,০০০) টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিআইডাব্লিউটিসির লোকজন।বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বণিজ্য) মো. আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আকার ও ওজনের উপর প্রতিটি ট্রাকের ফেরির টিকিটমূল্য নির্ধারণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে ট্রাকচালকদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভুত

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর