সাংবাদিক ইউসুফ মিয়ার পুত্র গুরুতর অসুস্থ,পরিবারের পক্ষ থেকে সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা

নিউজ ডেস্ক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৯৭ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 95
    Shares

রাজবাড়ী রিপোর্টার্স ইউনিটের সভাপতি এবং মোহনা টেলিভিশন ও দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোঃ ইউসুফ মিয়ার শিশু পুত্র বেন-ইয়ামিন রাফি (৩) গুরুতর অসুস্থ।
তার মাথার বাম পাশে কানের উপরে পানি জমে থাকা এবং ২টি টিউমার শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে সে রাজধানী ঢাকার খ্যাতনামা এভার কেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছে। রাফি’র সুস্থতা কামনায় সাংবাদিক ইউসুফ মিয়া ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।

গতকাল ২৪শে অক্টোবর সন্ধ্যায় সাংবাদিক মোঃ ইউসুফ মিয়া জানান, গত ২০শে সেপ্টেম্বর রাতে তার পুত্র রাফি’র শরীরে জ্বরের উপসর্গ দেখা দিলে তাকে জ্বরের ওষুধ (প্যারাসিটামল সিরাপ) খাওয়ানো হয়। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর দেখা যায় রাফি’র বাম চোয়াল বেশ খানিকটা বাঁকা হয়ে গেছে। তখন তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ গোলাম ফারুকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি রাফি’কে দেখে ওষুধ লিখে দেন। ৩ দিন তার ওষুধ খাওয়ানোর পরও কোন উন্নতি না হওয়ায় ২৪শে সেপ্টেম্বর রাফি’কে রাজবাড়ী ডক্টরস কেয়ারের চেম্বারে নিয়ে আরেকজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোঃ মিজানুর রহমানকে দেখানো হয়। তিনি ৫ দিনের ওষুধ দেন। ৫ দিন ওই ওষুধ খাওয়ানোর পরও কোন উন্নতি না হওয়ায় ১লা অক্টোবর আবারও রাফি’কে ডাঃ মিজানুর রহমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি ওষুধ পরিবর্তন করে দেন। সেই ওষুধ ৩ দিন খাওয়ানোর পরও কোন পরিবর্তন না হওয়ায় ৪ঠা অক্টোবর রাফি’কে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের কনসালট্যান্ট (শিশু) ডাঃ খন্দকার মোঃ আব্দুল্লা হিম সায়াদকে দেখানো হয়। তিনি বিভিন্ন ধরণের পপরীক্ষা দেন। পরীক্ষাগুলো করানোর পর তিনি ওই দিনই রাফি’কে ফরিদপুরের আরোগ্য সদন প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া শুরু করেন। সেখানে কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর তিনি ৭ই অক্টোবর রাফি’কে রিলিজ করে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেন। বাড়ীতে আনার একদিন পরই রাফি আবারো বেশী অসুস্থ হয়ে পড়ে। খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। তখন মোবাইল ফোনে বিষয়টি ডাঃ সায়াদকে জানানোর পর তিনি পরামর্শ দেন, রাফি’কে আর এখানে আনার দরকার নেই। ওকে ঢাকার এনআইএনএসে (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতাল) নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ১৩ই অক্টোবর রাফি’কে সেখানে নেয়ার পর সেখানকার ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ বিজয় দেব হ্যাপী ওকে দেখে ওই হাসপাতালেরই পেডিয়াট্রিক নিউরোলজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ নাজমুল হকের কাছে রেফার করেন। তিনি ওকে দেখে এমআরআইসহ কিছু পরীক্ষা দেন। কিন্তু ওই কয়েক দিনে ১৭ কেজির থেকে কমে ১৩ কেজিতে নেমে যাওয়ায় এবং সিরিয়ালের সমস্যার কারণে সেখানে এমআরআইয়ের অপেক্ষায় না থেকে রাফি’কে এভার কেয়ার হাসপাতালে (অ্যাপোলো) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্যালাইন দিয়ে ১ দিন পর ১৫ই অক্টোবর রাফি’র এমআরআই করানো হয়। এরপর এমআরআই’র রিপোর্ট ওই হাসপাতালের অধ্যাপক ডাঃ নরেন্দ্র কুমারকে দেখানোর পর তিনি ওই হাসপাতালের নিউরো সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাঃ অমিতাভ চন্দ্র, পেডিয়েট্রিক নিউরোলজী বিশেষজ্ঞ ডাঃ সারোয়ার জাহান ভুইয়া এবং অটোলারীনোলজী বিশেষজ্ঞ ডাঃ এ এফ এম একরামুদ্দৌলার সাথে পরামর্শক্রমে রাফি’র মাথার বাম পাশে কানের উপরে পানি জমে থাকা এবং ২টি টিউমার শনাক্ত করেন। এভার কেয়ার হাসপাতালের উল্লেখিত ডাক্তারদের সকলেই ভারতীয়। এরপর তারা এভার কেয়ার হাসপাতাল ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে ১০ দিনের প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রেসক্রাইব করে দিয়ে সুবিধামত হাসপাতালে ভর্তি রেখে সেগুলো প্রয়োগ ও খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ১৬ই অক্টোবর রাফি’কে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করে ওষুধ প্রয়োগ ও খাওয়ানো শুরু হয়। ১০ দিনের কোর্স শেষ হওয়া আগামীকাল (আজ) ২৫শে অক্টোবর রাফি’কে আবারও এভার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।

রাফি’র পিতা সাংবাদিক মোঃ ইউসুফ মিয়া আরো জানান, এভার কেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রেসক্রাইব করা ওষুধ প্রয়োগ ও খাওয়ানোর ফলে রাফি এখন কিছুটা সুস্থ। তবে মুখের একপাশের আংশিক বাঁকা এখনো রয়ে গেছে। এভার কেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ প্রাথমিকভাবে যে ধারণা দিয়েছেন সে অনুযায়ী রাফি’কে ভারতের ভেলোরের অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে ব্যয়বহুল অপারেশন করাতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি সকলের দোয়া কামনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ফিরোজ আহমেদ
গোয়ালন্দ প্রতিনিধি

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর