শশুর বাড়ি থেকে লাশ হয়ে বাবার বাড়ি ফিরলেন গৃহবধূ লিমা

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৬৭৭ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 310
    Shares

জহুরুল ইসলাম হালিম।।
ভালোবেসে বিয়ের সাড়ে আট মাস পর শশুর বাড়ি থেকে
লাশ হয়ে গোয়ালন্দে বাবার বাড়ি ফিরলেন রাজবাড়ীর গৃহবধূ লিমা আক্তার। মৃতের পরিবারের
অভিযোগ, যৌতুকের টাকার চাহিদা মেটাতে না পারার অপরাধে স্বামী রুমন শেখ তাঁকে
পিটিয়ে মেরে হাসপাতালে লাশ ফেলে রেখে পালিয়েছে। এ ঘটনায় রাজবাড়ী সদর থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।

পুলিশ, সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জনা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের
মজিদ শেখেরপাড়া গ্রামের হকার কেরামত আলী শেখের মেয়ে লিমা আক্তার (১৯)। এদিকে রাজবাড়ী
সদর থানার দাদশী ইউনিয়নের সমেশপুর গ্রামের মো. নবা শেখের ছেলে অটোরিক্সা চালক রুমন
শেখ (২৫)। দেড় বছর আগে ওই লিমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে রুমন। পরে গত ১০
জানুয়ারি পরিবারিক ভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় লিমার দরিদ্র বাবা স্থানীয় বিভিন্ন
এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মেয়ের জন্য স্বর্ণালংকার ও মেয়েজামাইকে নগদ এক লাখ টাকা দেন।
বিয়ের পর শশুর বাড়িতে গিয়ে স্বামীর সংসারে সুখে দিন কাটছিল নববধূ লিমার। এরই মাঝে
রুমন শেখের আচরণ বদলে যায়। শশুর বাড়ি থেকে আরো এক লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে নিজ স্ত্রী লিমা খাতুনের উপর সে শারীরিক ও মানষিক নির্যাত চালাতে শুরু করে। এতে গৃহবধূ লিমার
জীবনে নেমে আসে অমানিশা।

এদিকে বিষয়টি জেনে লিমার অসহায় বাবা-মা তাদের মেয়েজামাইয়ের টাকার দাবী মেটাতে দিশেহারা হয়ে পড়েন।
মেয়ের সুখের জন্য গত কোরবানীর ঈদের কয়েক দিন আগে ধারদেনা করে মেয়েজামাই রুমনকে আরো ৪০ হাজার টাকা দেন কেরামত
আলী। এতে যৌতুকের টাকার ক্ষুধা আরো বেড়ে যায় রুমন শেখের। এক লাখ টাকা চেয়ে ৬০
হাজার টাকা কম পেয়ে সে তার স্ত্রীর উপর নির্যাতন চালানোর মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। স্বামীর
অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গৃহবধূ লিমা খাতুন ফোনে
আর্তচিৎকার করে তাঁর বাবাকে বলেন, ‘তুমি আমাকে বাঁচাও আব্বু। টাকা না দিলে তোমার
জামাই আমাকে মেরে লাশ বানাবে।’ অসহায় কেরামত আলী আর কোন টাকা দিতে অপারগতা
প্রকাশ করেন। এ কথা জেনে ওই রাতেই লিমা খাতুনকে বেদম মারপিট করে রুমন শেখ। এ সময়
স্বামীর মারপিটে স্ত্রী লিমা গুরুতর আহত হন। পরদিন গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে
মারাত্মক আহত অবস্থায় গৃহবধূ লিমাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় স্বামীসহ তাঁর
শশুর বাড়ির লোকজন। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক লিমা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন।
অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রীর লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে স্বামী রুমন শেখ ও
তার পরিবারের লোকজন সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে গৃহবধূ লিমা আক্তারের লাশটি
উদ্ধার করে পুলিশ। ময়না তদন্ত শেষে সন্ধ্যায় লিমা আক্তারের লাশটি রাজবাড়ী থেকে গোয়ালন্দের মজিদ
শেখেরপাড়া গ্রামে তাঁর বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে জানাজা শেষে ওই রাতেই
স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
রাজবাড়ী সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গৃহবধূ লিমা খাতুনের
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর তা জানা যাবে। এ
ব্যাপারে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
মৃত গৃহবধূ লিমা আক্তারের বাবা কেরামত আলী শেখ বলেন, ‘যৌতুকের টাকার চাহিদা
মেটাতে না পারার অপরাধে রুমন শেখ আমার আদরের মেয়েকে পিটিয়ে মেরেছে। আমি তার
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর