শিরোনাম
দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে দৌড়ে পালালেন এসআই উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কে হত্যাচেষ্টায় গুরুতর আহত নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে দুধ দিয়ে গোসল করালেন এলাকাবাসী  রাজবাড়ীতে মাদক মামলায় দুই মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বালিয়াকান্দিতে প্রতিপক্ষের হামলায় আনারস প্রতীকের কর্মী আহত  চালককে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনতাই : চারজনের যাবজ্জীবন খাবারের মেয়াদ নিয়ে বনফুলের এ কেমন প্রতারণা! বালিয়াকান্দিতে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ  চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলেদের ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগ ফরিদপুরের তিনটি উপজেলায় চেয়ারম্যান হলেন যারা

সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষনের প্রতিবাদে গোয়ালন্দে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

নিউজ ডেস্ক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৭০০ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০

0Shares

আসাদুজ্জামান রিয়াদ ও মাহমুদ শুভ’র উদ্যোগে গোয়ালন্দের ছাত্র-ছাত্রীর আয়োজনে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে বর্বরোচিত নারী নির্যাতন এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণধর্ষণ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন- নিপীড়নের প্রতিবাদে আজ ৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯ টায় গোয়ালন্দ শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবে দলমত নির্বিশেষে ধর্ষণ ও নিপীড়ন বিরোধী মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন রনি।
নাসির উদ্দিন রনি তার বক্তব্যে বলেন,নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে যে বর্বরোচিত নারী নির্যাতন করা হয়েছে তার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই ঘটনার সাথে যারাই জরিত থাকুকনা কেনো তাদের সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করি এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণধর্ষণ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন- নিপীড়নের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি আরো বলেন,
আসুন, দলমত নির্বিশেষে সবাই ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই।

এসময় দুই শতাধিক গোয়ালন্দের ছাত্র-ছাত্রী ও সর্বস্তরের মানুষ গোয়ালন্দ শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবে মানব প্রাচীর তৈরি করে মানববন্ধন করেন।

উল্লেখ্য, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এক নারীকে(৩৭) বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। ভিডিও ছড়িয়ে পরার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদের ঝর উঠতে থাকে।

নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনার প্রধান আসামি বাদলকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এ ছাড়া এই ঘটনায় দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারকেও অস্ত্রসহ নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

এর আগে এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা আজ ৫ অক্টোবর সকালে নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ হারুন অর রশীদ চৌধুরী।
গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে রহমত উল্লাহ (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর গতকাল বিকেলে আবদুর রহিম (২০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

থানা সূত্র জানায়, নির্যাতনের শিকার ওই নারী গতকাল বেগমগঞ্জ থানায় দুটি মামলা করেন। দুই মামলাতেই নয়জনকে আসামি করা হয়।

গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে এই ঘটনাটি ঘটে।
বেগমগঞ্জের ওসি মুহাম্মদ হারুন অর রশীদ চৌধুরী আজ বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় গতকাল দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। একটি মামলা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। অন্যটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে।

মামলার এজাহারের নারী উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামীকে বেঁধে রেখে আসামিরা তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তাঁরা এ ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। গত এক মাস ধরে তাঁরা এই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁরা এই ভিডিও ছেড়ে দেন।
জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন। এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। নির্যাতনের শিকার নারীকেও উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ওই নারীর ১৮ বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় কয়েক বছর আগে তিনি বাপের বাড়ি চলে আসেন। তাঁর এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়িতে ওই নারী ছেলে ও এক ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন। সম্প্রতি তাঁর স্বামী তাঁর কাছে আসা-যাওয়া করতে শুরু করেন। এ নিয়ে কয়েকজন যুবক আপত্তি জানিয়ে সেদিন ওই নারীকে নির্যাতন করেন। ঘটনার দিন ওই নারী তাঁর স্বামীর সঙ্গেই ছিলেন। নির্যাতনকারীরা তাঁর স্বামীকেও আটক করে নিয়ে যায়। পরে ওই নারীর ভাই ১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে আনেন। ওই নারীর মা নেই। বাবাও দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র থাকেন।

গতকাল বেলা তিনটার দিকে নির্যাতনের শিকার ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পৈতৃক ভিটার বসতঘরে তালা ঝুলতে দেখা যায়।তাঁর চাচা বলেন, এলাকার কিছু যুবক তাঁর ভাতিজিকে ‘খারাপ’ আখ্যায়িত করে ঘরে ঢুকে নির্যাতন করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না।
ওই চাচা আরও বলেন, নির্যাতনের ঘটনার পর থেকে বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে তাঁরা কোথায় চলে গেছেন, কাউকে বলে যাননি।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ চৌধুরী গতকাল বলেন, এক মাস আগে ওই নারী নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি কিংবা তাঁর পরিবারের কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। গতকাল দুপুরে বিষয়টি শোনার পর তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবদুর রহিম নামের একজনকে আটক করেন।

ফিরোজ আহমেদ
গোয়ালন্দ প্রতিনিধি

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg