শিরোনাম
শিবালয়ে নিষিদ্ধ সময়ে যমুনার চরে দিনব্যাপী ইলিশের হাট দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে যৌনকর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার- গোয়ালন্দে কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহল মরাপদ্মায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বহিস্কার গোয়ালন্দে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আটক- গোয়ালন্দে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই জন আটক গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান রাজবাড়ীতে শেখ হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মানি বিতরণ অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে জরিমানা, ৭টি ড্রেজার জব্দ গোয়ালন্দে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ এমপি কন্যা চৈতীর উদ্যোগে

গোয়ালন্দে দুই বলয়ে বিভক্ত আ.লীগ, প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ১

নিউজ ডেস্ক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৬৭২ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

0Shares

গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌর আওয়ামী লীগ, উজানচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, দেবগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সহ ছাত্রলীগ-যুবলীগ কৃষকলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠন এবং অপর দিকে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী আসাদ গোয়ালন্দ উপজেলা যুবলীগ, সাবেক গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, এবং আওয়ামী লীগের একটা অংশ পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেন।

দুই শতাধিক লোকের অংশগ্রহণে ১১টার সময় গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের সামনে মহা সড়কের পাশে আওয়ামীলীগের একাংশের করা মানববন্ধনে উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন আসন্ন উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, যাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছে তিনি বিএনপি-জামাত থেকে আগত, তাকে আমরা মেনে নিব না এবং সেই সাথে তার দলীয় মনোনয়ন বাতিল করে দলের ত্যাগী কোন এক নেতাকে মনোনয়ন দিতে দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানান।

অপরদিকে গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচিতে গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব নুরুজ্জামান মিয়া বলেন, রাজবাড়ী জেলা ১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলীর ইন্দনে যে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে তাতে স্পষ্ট বোঝা যায় তিনি নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এমপি সাহেব চাচ্ছেন কোন এক সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি কে মনোনয়ন দিতে। রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলীর নির্দেশে গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মুক্ত করার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তাতে এমপি সাহেব প্রত্যক্ষভাবে বাধা দান করছে। তিনি চান না চাঁদাবাজ, দালাল,সন্ত্রাসী মুক্ত গোয়ালন্দ হোক। তিনি আওয়ামীলীগের মধ্যে বিভেদ তৈরি করছেন। যাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তিনি অত্যন্ত ভাল লোক তার চরিত্রে কোন দাগ নেই। তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়াতে উপজেলা আওয়ামী লীগ অত্যন্ত আনন্দিত এবং উপজেলা বাসিও তাকে নৌকা প্রতীক দেয়ায় খুশি। দলের সবাই তার জন্য কাজ করবে ইনশাল্লাহ।
এদিকে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে যাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, মোস্তফা মুন্সি তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমি কোন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এই কাজী কেরামত আলী এমপি সাহেব আমাকে বলেছিলেন, আপনি ভালো লোক আপনি আমাদের দলে আসেন আপনার মত লোক আমাদের দলে আসলে দলের ভাবমূর্তির উজ্জ্বল হবে। এমপি সাহেব এবং তার মেয়ে কানিজ ফাতেমা চৈতির অনুরোধে আমি দলে আসি এবং আমার নিজস্ব অর্থায়নে সেই সময় তার সংসদ নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ করি।
এদিকে আওয়ামী লীগের করা বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা দানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

১১টার দিকে নৌকা বিরোধী মানববন্ধন এর বিপক্ষে করা উপজেলা আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ মিছিল টি গোয়ালন্দ বাস স্ট্যান্ড থেকে উপজেলা পরিষদ অভিমুখে যাত্রা করলে জামতলা পৌছানোর আগেই উজানচর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কের উপর পুলিশ মানব প্রাচীর তৈরি করে বিক্ষোভ মিছিলটি বাধা প্রদান করে এবং পুলিশ দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে সামনে অগ্রসর হতে নিষেধ করেন কিন্তু একপর্যায়ে দলীয় নেতা-কর্মী বাধা উপেক্ষা করে সামনে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশের সাথে ধ্বস্তাধ্বস্তির ঘটনা ঘটে। পরে দলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে সামনে অগ্রসর না হয় তারা রাস্তায় বসে পড়েন এবং সেখানেই কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এমত অবস্থায় মহাসড়কের উপর প্রায় এক ঘণ্টা বসে থাকার কারণে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রায় এক ঘণ্টা পর রাজবাড়ী পুলিশের এএসপি শরিফুজ্জামান ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমঝোতা হলে নেতাকর্মী রাস্তা থেকে উঠে গোয়ালন্দ বাস স্ট্যান্ডের দিকে অগ্রসর হয়ে মিছিলের সমাপ্তি ঘোষণা করলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অপরদিকে নৌকা বিরোধি মানববন্ধনের বিপক্ষে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে উজানচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বেলা ১টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে গোয়ালন্দ মাল্লাপট্টি ব্রিজ এলাকায় সুজন ও নয়ন নামের দুই যুবক তার গতিরোধ করে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং মোটরসাইকেলটি ভাংচুর করে। তাকে প্রথমে গোয়ালন্দ হাসপাতাল ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এর প্রতিবাদে গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগ বিকাল ৫ টায় শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে।

হামলার ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ১ টা মামলা দায়ের হয়েছে।

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি
ফিরোজ আহমেদ

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg