শিরোনাম
গোয়ালন্দে একদিনে নারীসহ ১৩ আসামি গ্রেপ্তার পাটুরিয়া ঘাটে গাড়িসহ ফেরি ডুবি- এক ঘণ্টার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলার ইউএনও হলেন বাবলী- শিবালয়ে নিষিদ্ধ সময়ে যমুনার চরে দিনব্যাপী ইলিশের হাট দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে যৌনকর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার- গোয়ালন্দে কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহল মরাপদ্মায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বহিস্কার গোয়ালন্দে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আটক- গোয়ালন্দে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই জন আটক গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

গোয়ালন্দে মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবা ও চাচাকে মারধরের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৪৬০ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

0Shares

গোয়ালন্দ উপজেলার নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মেয়ের বাবা ও চাচাকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেয়ের বাবা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম সহ অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, আমার মেয়ে মোসাম্মাদ সানজিদা ইসলাম সিমি (১৪) সান-শাইন স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। স্কুলে যাতায়াতের সময় ২ নং বিবাদী সাব্বির রহমান আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অভিযোগ করার কারণে তাৎক্ষণিক সাব্বির রহমান কে পুলিশ ধৃত করে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট উপস্থাপন করলে তিনি ছেলেমেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সাব্বির রহমান কে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করলে সাব্বির রহমানের অভিভাবকগণ টাকা দিয়ে জিম্মায় নিয়ে আসে।

উক্ত ঘটনার পর থেকে সাব্বির রহমান সহ হাবিবুর রহমান, সেলিম হোসেন, আরিফ হোসেন ও শেফালী বেগম সহ আমাকে এবং আমার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তার মাধ্যমে সমাজে প্রচার করে, আমাকে মারার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে আনুমানিক ৭:৫০ ঘটিকার সময় আমি গোয়ালন্দ বাজার থেকে বাড়িতে যাওয়ার সময় গোয়ালন্দ ঘাট থানাধীন জুড়ান মোল্লারপাড়া সাকিনস্থ মৃত গোলাম মোস্তফার বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে উপরোক্ত বিবাদী গন সহ অজ্ঞাত নামা ৮/১০ জন হাতে লাঠিসোটা ও লোহার রড সহ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বেআইনি জনতাবদ্ধে আবদ্ধ হয়ে আমার গতিরোধ করে। আমি বিবাদীদের গতি রোধ করার কারণ জিজ্ঞাসা করলে ১ নং বিবাদী হাবিবুর রহমানের হুকুমে অন্যান্য বিবাদীগণ আমাকে লাঠিসোটা ও লোহার রড দিয়ে মারপিট করে। আমার ডাক চিৎকারে আমার ভাই শহিদুল ইসলাম ও আমার ভাতিজা শেফায়েত হোসেন এগিয়ে আসিলে ২ নং বিবাদী সাব্বির রহমান তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে আমার ভাইকে খুন করার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ করিয়া বারি মারিলে উক্ত বারি আমার ভাই ডান হাত দিয়ে ঠেকালে উক্ত বারি ডান হাতে লেগে গুরুতর হাড়ভাঙ্গা জখম হয়। আমার ভাই মাটিতে পড়ে গেলে ১ নং বিবাদী হাবিবুর রহমান তার হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে আমার ভাইয়ের পিঠে একাধিক বারি মারে জখম করে। আমার ভাতিজা সেফায়েত হোসেন এগিয়ে আসলে উপরোক্ত বিবাদীগণ সহ অজ্ঞাত নামা ৮/১০ জন লাঠি সোঠা ও লোহার রড দিয়ে আমাকে এবং আমার ভাতিজাকে মারপিট করে জখম করে। সকল বিবাদী গন আমার আমার ভাই, ভাতিজা ও আমাকে মারপিট করে জখম করে। ১ নং বিবাদী হাবিবুর রহমান আমার প্যান্টের ডান পকেটে থাকা নগদ ২০০০০ টাকা নিয়া যায়। আমাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন আগায়ে আসলে বিবাদী গন আমাদের সুযোগ মত পাইলে খুন জখম করিয়া ফেলিবে বলে হুমকি প্রদর্শন করিয়া ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। আমি স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আমার ভাইকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করিয়া চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করি। আমার ভাই বর্তমানে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি। আমি বিষয়টি পরিবারের লোকজনের সহিত আলোচনা করে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়।

এদিকে ৩ নং বিবাদী সেলিম হোসেন রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ কে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। সানজিদা ইসলাম সিমি স্বইচ্ছায় একাধিকবার আমাদের বাড়িতে চলে আসে। সিমির বাবা এবং আমাদের পরিবারের সাথে সমঝোতা করে আমার ভাই সাব্বির রহমান ও সিমির বিয়ে দেয়ার কথাও আলোচনা হয়েছিল কিন্তু শেষবার যখন সিমি আমাদের বাড়িতে আসে তখন তার বাবা আমাদের বাড়িতে এসে তার মেয়েকে সহ আমার ভাইকে মারধর করে এবং আমরা সেটার প্রতিবাদ করায় আমাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। তিনি আরো বলেন এই ঘটনার জন্য আমার বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সিরাজুল ইসলামকে বিবাদী করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানা যায় সিমি এবং সাব্বির রহমানের মধ্যে একটি সম্পর্ক আছে যে কারণে সিমি স্বইচ্ছায় সাব্বির দের বাড়িতে একাধিকবার উঠে এসেছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ্-আল- তায়াবির বলেন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের মাধ্যমে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি
ফিরোজ আহমেদ

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg