শিরোনাম
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে ফ্রান্সে ব্যঙ্গচিত্র করাতে ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকী হক’কে দৌলতদিয়ায় গণ সংবর্ধনা রাজবাড়ীতে তুলে নিয়ে কিশোরীকে বিয়ে, কাজিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা ফুডপ্যান্ডা এবার রাজবাড়ীতে মরহুম গোলাম মোস্তফা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন জামিনে মুক্ত হলেন ছাত্রলীগ নেতা নাহিদুল আলম রাজু রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি গ্রেফতার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব রাজবাড়ীতে নতুন করে ২ জন করোনা আক্রান্ত , মোট মৃত্যু ২৪ জন হাজি সেলিমের ছেলের বাসা থেকে গুলি-পিস্তল, ইয়াবা ও বিদেশী মদ উদ্ধার

কালুখালীতে পিআইও’র বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ ডেস্ক / ৩২৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০

সংবাদটি শেয়ার করুন

জুলফিকার আলী :
সোমবার (২০ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসনের পক্ষে দু’জন উর্দ্বতন কর্মকর্তা কালুখালীর পিআইও নাসরিন সুলতানার সাথে ও দরখাস্তকারী শহীদ খানের সাথে পৃথক পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ তদন্ত করেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে নো কমেন্টস বলে তারা চলে যান।

অভিযোগে প্রকাশ, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়ায় সরকারি খাস জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ২০ জুন ভূমি মন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি ভূমি মন্ত্রানালয়ের সচিব, দূর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, দূর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব, ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় এবং মহাপরিচালক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জমি দখল করেন। এতে সহযোগিতা করেন ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রশিদ মন্ডলসহ বোয়ালিয়া ইউপি ভূমি অফিসের ও পিআইও অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

স্থানীয় বাসিন্দা সহিদ খান এই অভিযোগ করেন। তাঁর বাড়ি বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে। সহিদের বাবার নাম ওসমান খান। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালুখালীর বোয়ালিয়া মৌজায় খতিয়ান নম্বর ১/১ ভুক্ত ও ২০৬৩ নম্বর দাগে সরকারের এক একর ৮৬ শতাংশ খাস জমি রয়েছে। এই জমির মালিক সরকার। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে এই সম্পত্তি স্থানীয় বাসিন্দা হযরুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি ভোগদখল ও চাষাবাদ করতেন। তিনি ১৯৭৩ সালে মারা যান। এরপর তাঁর তিন মেয়ে ও স্বজনরা উক্ত জমির মালিক হয়। তবে বড় মেয়ে ১৯৬০ সালে মারা যায়। ১৯৮০ সালের বিভিন্ন সময়ে ওয়ারিশমূলে তিন মেয়ের কাছ থেকে জমি রেজিস্ট্রি করে নেন। কিন্তু নামজারি করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন। ১৯৮০ সালের ২৯ ডিসেম্বর মৃত ব্যক্তিদের জীবিত দেখিয়ে জমির নামজারি করা হয় হযরুদ্দিনের নামে। পরদিনই ৩০শে ডিসেম্বর মকিম উদ্দিন ও মোশারফ মিয়ার নামে নামজারি করা হয়। হযরুদ্দিনের আবদুল শেখ নামে আরেক ভাই ছিলো। কিন্তু এদের নাতিরা বয়সে সে সময়ে ছোট হওয়ার এবিষয়ে কোন প্রতিবাদ করতে পারেনি। সম্প্রতি মকিম উদ্দিন তাঁর ছেলের বউ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নাসরিন সুলতানার নামে উক্ত জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর বোয়ালিয়া ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রশিদ মন্ডলসহ সরকারি লোকদের কাজে লাগিয়ে জমির দখল নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আকবর শেখ, ইব্রাহিম শেখ, ফারুখ শেখ বলেন, দখলদার পক্ষ প্রভাবশালী। ওই জমি নিয়ে মামলা মোকদ্দমা আছে। জালিয়াতি করে জমির দলিল করার অভিযোগ রয়েছে। সরকারের খাস জমি কিভাবে সরকারী ভূমি অফিস ও পিআইও অফিস স্থানীয় ঠিকাদার ও আওয়ামীলীগের নেতা রশিদ মন্ডলের সার্বিক সহযোগিতায় পিআইও নিজে উপস্থিত থেকে দখলে নিয়েছেন। ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রশিদ মন্ডল বলেন, শুনেছি জমি নিয়ে ঝামেলা রয়েছে। তবে তা নিজেদের মধ্যে। নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করার কথা ছিলো। মকিম মাস্টার সাহেবের ছেলে আমাকে থাকতে অনুরোধ করেছিলেন। একারণে আমি সরেজমিনে গিয়েছিলাম। তবে অপরপক্ষের লোকজন না আসায় আর মাপা হয়নি। আমি কিছুক্ষণ থাকার পর সেখান থেকে চলে আসি। আমি কারো পক্ষে জমি দখল করতে যাইনি। তবে স্থানীয় বাসিন্দা সহিদ নামে এক ব্যক্তি প্রায় দেড়বছর আগে ওই জমি নিয়ে আপত্তির কথা বলেছিলো। পরে তিনি আর এবিষয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন নাই। পিআইও নাসরিন সুলতানা বলেন, এই জমি আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনসহ বেশ কিছু ব্যক্তি ৪০-৪২ বছর আগে থেকে ব্যবহার করে আসছেন। এখানে বাড়িঘরসহ একটি মিলও রয়েছে। আমার বিয়ে হয়েছে ১৩-১৪ বছর আগে। ওই জমির মালিক তাঁরা কিভাবে হয়েছে তা জানি না। তবে আমার নামে জমি লিখে দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি আমার দেবর ঘর তুলতে গেলে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ফারুক শেখ সহ কয়েকজন বাধা দেয়। এতে করে ইউনিয়ন তহসিল অফিসে জমি মাপজোখের জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত দিনে বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ উপস্থিত হয়নি। ৪০-৪২ বছর আগে ভোগদখলে থাকলে মুজিববর্ষের মার্চ মাসে ২০২০ সালে পুনরায় কেন আবার দখল? জানতে চাইলে পিআইও কোন কথা না বলে ফোন রেখে দেন। জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, অভিযোগের কপি আমার সামনে আসেনি। অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করানো হবে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মুজিববর্ষে রাজাকার মকিম উদ্দিন বেটার বউয়ের ও আওয়ামীলীগের সহযোগিতায় কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করায় স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসনের পক্ষে দু’জন উর্দ্বতন কর্মকর্তা কালুখালীর পিআইও নাসরিন সুলতানার সাথে ও দরখাস্তকারী শহীদ খানের সাথে পৃথক পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়াও এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ তদন্ত করেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে নো কমেন্টস বলে তারা চলে যান। দরখাস্তকারী সহিদ খান জানান ঢাকার অফিসাররা আমার সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর