শিরোনাম
দৌলতদিয়া মডেল স্কুলের ছাত্রী লিমা হত্যার বিচারের দাবিতে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন শেষ হলো অভিশপ্ত দিন সপরিবারে করোনামুক্ত হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম মশক নিধনে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের শুভ উদ্বোধন করলো ডিএনসিসি দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে চাঁদাবাজীর অভিযোগে গ্রেফতার-২ রাজবাড়ীর বাগমারা থেকে জৌকুড়া ঘাট মহাসড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবীতে মানববন্ধন রাজবাড়ীতে নতুন করে ৯ জন করোনা আক্রান্ত , মোট মৃত্যু ২৪ জন পদ্মায় ইলিশ ধরার দায়ে রাজবাড়ীতে ১১ জেলের কারাদণ্ড রাজবাড়ীতে আগামীকাল ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিষেধাজ্ঞা শেষ আজ কাল থেকে ‘মুক্ত’ সাকিব

আমরা প্রবাসীরা দেশে কষ্ট করে টাকা পাঠাই, আর সুবিধাবাদী কিছু অমানুষেরা টাকা বিদেশে পাচার করে

অনলাইন ডেস্ক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১৯৭ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 256
    Shares

কাতার প্রবাসী সহিদুল ইসলাম ২০১৩ সালে ছয় ভাই-বোনের সংসারের অভাব ঘোচানোর তাগিদেই অনেক কষ্ট আর ঋণগ্রস্থ হয়ে সুখের আশায় পাড়ি দিয়েছিলো মরুদেশ কাতারে৷

শুনছিলাম তার মুখেই তাঁর প্রবাসজীবনের কথা। দীর্ঘ সাত বছর প্রবাসে কাটিয়ে দিয়েছি সংসারের ঘানি টানতে টানতে, নিজেকে মাঝেমাঝে খুব বোকা মনে হয়, এক কথায় সংসারের সুখের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিলাম অসহায় হয়ে প্রবাসের মাটিতে ৷ সংসারের সুখের পিছনে ছুটতে ছুটতে জীবনের ৩৩ বছর পার হলো বুঝতেই পারিনি৷

কাতার প্রবাসী সহিদুল ইসলাম

আমি হাউজ ড্রাইভার হিসাবে কাতারে আসি, প্রথম ছয় মাস বলতে গেলে শুধু খাওয়া থাকা পেয়েছি তারপর থেকে যা বেতন পেতাম সবই লোনের টাকা পাঠাতে হয়েছে।
তারপর আবার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংসারের পুরো চাপ আসে আমার ওপর৷

নিজেকে বিলিয়ে দিলাম কাজের মধ্যে ৷ ঋণ শোধের চিন্তায় কত রাত যে নির্ঘুম কেটেছে৷ অপেক্ষা ছিল কখন শেষ হবে ঋণ, কিস্তি থাকলে প্রবাস জীবনটা কত যন্ত্রণার ও কষ্টের তা প্রবাসী ছাড়া কেউ বুঝে না, মাসে মাসে যা বেতন পাই তার বেশিরভাগই ঋণ শোধ করতে ফুরিয়ে যেত৷

তখন বেশি টাকা বাড়িতে দিতে পারতাম না বলে বাড়ির সবাই আমাকে নানা কথা বলত, খুব খারাপ লাগতো তখন৷ নিজেকে শূন্য অনুভূতি হতো৷

অভিমানে মনে হতো দেশ ছেড়ে কেন একা একা জ্বলছি দূর প্রবাসে, আমি তো চেয়েছিলাম সবাইকে নিয়ে সুখে থাকতে৷ কী পেলাম আপনজনদের থেকে যন্ত্রণা ছাড়া? কাদের জন্য জীবনের অনেকগুলো বছর যন্ত্রণার প্রবাসে ঘাম ঝরিয়েছি৷ কাদের সুখের জন্য তবে কবর দিয়েছি এই মরুতে আমার যৌবন!

যাইহোক পরে ধার দেনা শেষ হলো, হাতে কিছু টাকাও জমিয়েছি ভাবলাম এবার একটু ছুটি দরকার চার বছর পর আমি দেশে ছুটিতে যাই, বিয়ে করলাম আমার এসে পরলাম সুখ কিনতে কষ্টের শহরে, মাঝেমাঝে নিজেকে খুব উদভ্রান্ত মনে হয়, কিছুই ভাল লাগে না যখন শুনি আমরা প্রবাসীরা দেশে কষ্ট করে টাকা পাঠাই আর কিছু সুবিধাবাদী মানুষেরা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে, আমরা কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা পাঠাই, দেশের সেই টাকা দিয়ে কেউ কেউ খিচুড়ি রান্না শিখতে যেতে চায় বিদেশে, অথচ প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে মারা গেলে তাদের লাশটা পর্যন্ত কেউ ফিরিয়ে নেই না, এই আক্ষেপ তাকে তাড়া করে ফিরে।

তবুও স্বপ্ন দেখি নতুন দিনের, আশায় বাধি ঘর, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে, আমিও দেশে যাব পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকবো। আর পেছনে পরে থাকবে সেই পরাহত প্রবাস জীবন৷

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর