শিরোনাম
মানিকগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন: সভাপতি আমিনুল, সম্পাদক নুরুজ্জামান গোয়ালন্দে ৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক কাজী ছালামের বিরুদ্ধে বাল্যবিয়ে পড়ানোসহ নানা অভিযোগ গোয়ালন্দে পানিতে ডুবে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু গোয়ালন্দে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে বাগানে নিয়ে এক নারীকে গণধর্ষনের অভিযোগ কৃষকের বাড়ি নির্মাণে আ.লীগ নেতার চাঁদা দাবি, থানায় অভিযোগ ছাত্রীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় শিক্ষককে পেটালো সাবেক ২ ছাত্র গোয়ালন্দে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা বাড়ছে ভাসমান ভিক্ষুকের সংখ্যা এক ঘন্টার প্রতীকী ইউএনও হলেন ফারজানা আক্তার

দৌলতদিয়াতে নদী ভাঙনের শব্দ ও বালু উত্তোলনের মহোৎসব

সম্পাদকীয় | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৩৯৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

0Shares

প্রতিবছর বর্ষার শুরুতেই দৌলতদিয়ায় পদ্মাপাড়ে নদী ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়, অসংখ্য মানুষ ফসলি জমি, বসতভিটা ও জীবিকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে, পদ্মার তীরবর্তী গ্রামবাসীর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। নদীগর্ভে সব হারিয়ে বিপন্ন মানুষ আশ্রয় খোঁজে এই অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে,এই পাড় ছেড়ে ঐ পাড়ে ছুটতে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বিষয়ক সংস্থা নাসা ২০১৮ সালে গবেষণায় দেখিয়েছে ১৯৬৭ -২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৫৬ বর্গমাইল এলাকা পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।

বিশ্বের প্রভাবশালী বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ স্পিংগার নেচার ‘ এর গবেষণাটির দলনেতা অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড: আশরাফ দেওয়ানের গবেষণা থেকে জানা যায় এই অংশের পদ্মা নদীর বয়স দুইশত বছরেই মতো। আর নদীর দুপাশের ভূখণ্ড অনেক অপরিণত ও দুর্বল মাটি দিয়ে গঠিত।

ভাঙন

ফলে পদ্মায় প্রতিবছর ১৭ বর্গকিলোমিটার ভাঙন দেখা দেয় ,১৩ বর্গকিলোমিটার গড়ে। সেই হিসাবে বছরে আমরা চার বর্গকিলোমিটার হারাচ্ছি।

নদী ভাঙনের শিকার মানুষদের নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন নির্মাতা সারোয়ার জাহান। তিনি নদী ভাঙন নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গিয়ে নদী ভাঙনের কারণ নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন। নদীর বুক থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙন আরও ভয়াবহ করে তুলছে বলে মনে করেন।

নদী গবেষকদের মতে,এই নদী ভাঙনের অন্যতম কারণ হলো অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন। ফলে গত ৬ সেপ্টেম্বর,২০২০ মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে একটি পরিপত্র (স্মারক নম্বর ০৪.০০.০০০০.৫২২২.৯৯.০০১.২০.৬০) অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিপণন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সকল জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজেস্ট্রিট কে নির্দেশ প্রদান করেন। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থপনা আইন -২০১০ , যথাযথ অনুসরণ না করে ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নদী ভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় রাজবাড়ী জেলা পুলিশ প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে গত ৩১ আগস্ট ২৬ টি বালু ট্রাক আটক করে ট্রাফিক পুলিশ। এতে কার্যত ধাওয়া পাড়া বালু মহল বন্ধ হয়ে যায়।

ধাওয়া পাড়া বালুমহল বন্ধ হয়ে যাওযায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক একটি মহল সম্প্রতি দৌলতদিয়া পদ্মা নদী থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে ঝুঁকি বাড়ছে নদী ভাঙনের।

আবহমান কাল থেকে নদীকে কেন্দ্র করেই বেশিরভাগ মানুষের জীবন- জীবিকা। তাই নদী তীরেই বাস করছে মানুষ। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে জলের গভীর থেকে মাটির তলদেশের ভাঙনে খসে পড়ছে সবুজ সুন্দর গ্রাম, বাপ -দাদার বসতি ভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর বিলীন হচ্ছে সভ্যতা।

কবিতার ভাষায়

নিচ্ছো কেড়ে যতনে গড়া সুখের বাড়ি ও ঘর
ফসলের জমি ভেঙে নিয়ে বানাচ্ছো বালুচর
সর্বহারা হচ্ছে যারা,পথে পথে ঘুরছে তারা,
বুকফাটা কান্নার শব্দ বাজে করুন সুরে

তাই নদী ভাঙনের শব্দ বন্ধ করতে হলে বন্ধ করতে হবে নদী থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন।

লেখক,
গাজী সাইফুল ইসলাম,
সম্পাদক ও প্রকাশক,রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg