নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘উত্তরণ’

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৬৯ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 38
    Shares

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, ১৯৯৫ সালে বেইজিং ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের যৌথ উদ্যোগে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০০০ সাল হতে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে আসছে। এ প্রকল্পের সহযোগী হিসেবে ১১ টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তথা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালযয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এই এ্যাপ নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার সকালে ( ১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম প্রকল্পের উদ্যোগে অনলাইন প্ল্যাটফরম ‘উত্তরণ’ এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রশাসন ফরিদা পারভীন ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের মান্যবর রাষ্ট্রদূত উইনি এসট্রাপ পিটারসেন (Winnie Estrup Petersen)।

প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের সাথে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা কমানোর পাশাপশি সেবা কার্যক্রম জোরদার করা। এই প্রকল্পের আওতায় ১৩টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, ৪৭টি জেলা সদর হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেল, ঢাকায় ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরী, ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার (ন্যাশনাল টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১০৯), জয় মোবাইল অ্যাপস ও ন্যাশনাল সেন্টার অন জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের মনোসামাজিক কাউন্সেলিং প্রদানের জন্য কক্সবাজারের উখিয়ায় ১১টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৮-২০৩০ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় ‘ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান আছে।

অনলাইন প্লাটফর্মে সংযুক্ত হয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এসট্রাপ পিটারসেন বলেন, ডেনমার্ক সরকার ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশের সাথে যৌথ উদ্যোগে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করে আসছে। সভাপতিী বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব ফরিদা পারভীন বলেন, এই অনলাইনের প্ল্যাটফরম এর মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আমাদের জন্য একটা বিশেষ সুযোগ সম্ভাবনা তৈরী হলো।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম এর প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন। অনুষ্ঠানে অনলাইন প্লাটফর্মে সংযুক্ত হয়ে প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম এর অনলাইন প্ল্যাটফরমের শুভ উদ্বোধন করেন ।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর