খন্দকার লাইব্রেরী রাজবাড়ী
শিরোনাম
গোয়ালন্দে দুই বলয়ে বিভক্ত আ.লীগ, প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ১ রাজবাড়ীতে নতুন করে ১৪ জন করোনা আক্রান্ত , মোট মৃত্যু ২৪ জন মোংলায় মাস্ক পরিধান বাধ্যতামুলক করতে পুলিশের অভিযান, ৩২ জনকে অর্থদন্ড ভিটামিন-‘এ’প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে রাজবাড়ীতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা রাজবাড়ী বাজারে ৩ মাংস ব্যবসায়িকে জরিমানা ছাতকে প্রবাসী স্ত্রীকে ভিডিও কলে হুমকী দিয়ে স্বামীর আত্মহত্যা রাজবাড়ীতে ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক গোয়ালন্দে মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবা ও চাচাকে মারধরের অভিযোগ গোদার বাজারে হঠাৎ তীব্র নদী ভাঙন (দেখুন ভিডিওসহ) গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন পালন

গড়পাড়া ইমাম বাড়ি মহররম, কাসেদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

অনলাইন ডেস্ক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 461
    Shares

মানিকগঞ্জ গড়পাড়া ইমাম বাড়িতে অত্যন্ত শােকাবহ পরিবেশের মধ্য দিয়ে পবিত্র মহররম শরীফ উদযাপিত হয় হিজরী ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালা প্রান্তরের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে অস্ত্রধারণ করে বিশ্ব মুসলিম মুক্তির দিশারী আখেরী নবী হযরত মােহাম্মদ (সাঃ) এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রঃ) কারবালা প্রান্তরে যে মর্মান্তিকভাবে শহীদ হায়েছিলেন তাঁর স্মরণে হযরত শাহ খলিলুর রহমান (রঃ) পীর সাহেব বাংলা ১৩২৮ সালে ও ইংরেজি ১৯২১ খ্রিঃ নিজ বাড়িত “গড়পাড়া ইমামবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন ।

তিনি ঐতিহাসিক কারবালা যুদ্ধের স্মৃতিকে ধারণ করার লক্ষ্যে ঢাকা হোসেনী লাল, হুগলী এমামবাড়ির ন্যায় পবিত্র মহররম শরীফ উযাপন শুরু করেন। সদ্য প্রয়াত হযরত শাহ মােখলেছুর রহমান (র.) এর কাছ থেকে জানা যায়, প্রথম এই এমাম বাড়ি থেকে পাটখড়ির মাথায় খন্ড খন্ড লাল রঙের কাপড়ের নিশান তৈরি করে ছােট আকারে মহররমের মিছিল বের করা হতো এবং তৎকালীন গড়পাড়া পুরান হাটে গিয়ে মিছিলটি সমবেত হতাে। তারপর গড়পাড়া ইমাম বাড়িতে ভক্তবৃন্দের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ধীরে ধীরে মহররম পর্বের আনুষ্ঠানিকতারও প্রসার ঘটতে থাকে । পহেলা মহররম থেকে ১০ মহররম পর্যন্ত আশুরার যাবতীয় কার্যাদি যেমন-মিলাদ, ফাতেহা, জেয়ারত, নেওয়াজ, জারি সারি, মার্সিয়া, মাতম, তাজিয়া লুল ও অগনিত ভক্ত সময়ে শােক মিছিল বের করতেন।

প্রায় ৮৭ বছর আগে ১৯৩৩ খ্রি. তৎকালীন মানিকগঞ্জের বিশিষ্ট রাজনীতিক মসিহ উদ্দিন রাজা মিয়া, খান হােসেন খান এডভোকেট আনোয়ার উদ্দিন শিকদার, এডভােকেট মােসলেম উদ্দিন খান হাবু মিয়া প্রমুখ মুসলিম শক্তির সংহতি ও ঐক্যকে বাহাদুর আওলাদ মানিকগঞ্জ শহরে প্রদর্শনের লক্ষ্যে গড়পাড়া পীর সাহেবকে তার মহররমের মিছিল মানিকগঞ্জ প্রদক্ষিণের অনুরােধ জানান নেতৃবৃন্দের অনুরােধে হযরত শাহ খলিলুর রহমান (রঃ) পীর সাহেব ১৯৩৩ খ্রি তার ১০ মহররমের শােক মিছিল প্রথম বারের মতাে মানিকগঞ্জ শহর প্রদক্ষিণ করেন । এই মহররমের মিছিল ছিল সেদিন মূলত মানিকগঞ্জে মুসলিম সংহতি, শক্তি ও ঐক্যের প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ। ১৯৭১ খ্রি মহান মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন ও সহযােগিতার ক্ষেত্রেও এই গড়পাড়া এমাম বাড়ির বিশেষ প্রশংসনীয় ভূমিকা ছিল ।

প্রকৃত রসুলপমী দ্বীন-ই-ইসলাম ও আহলে বাইতের তরিকা প্রচার, সহ বহুমাত্রিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রে হই এই গড়পাড়া ইমাম বাড়ি মহররম পর্ব সম্পন্ন করার জন্য রবারের পক্ষ থেকে প্রতিবছর ব্যাপক প্রতি গ্রহণ করা হয় । মহররম পর্বের মধ্যে উল্লেখযােগা আয়ােজন হলাে কাশেদ দল গঠন করে মাজার শরীফের বিভিন্ন পর্যায়ের ভক্তবৃন্দ এই কাশেদ বিভিন দলে অংশগ্রহণ করে থাকেন। প্রতি বছর ২৮থেকে ২৯টি কাশেদ দল গঠন করা হয় এবং তারা জেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে নির্ধারিত বাড়িতে গিয়ে কারবালা প্রান্তরে শহীদদেরব করুনগাথা মার্সিয়া ও গান পরিবেশন করেন মহররম মাসের নয় তারিখ পর্যন্ত মানিকগঞ্জের পথে প্রান্তরে চোখে পড়ে লাল রঙের নিশান, প্রতীকী রামদা, বর্শা,তালােয়ার, তামা বা পিতলের তৈরি ঢাল, লাঠি, সামরাই ইত্যাদি হাতে কারবালার রক্তলাল ও শােকের কালো বসন পরিহিত কাশেদ দল গ্রাম গঞ্জের পথ প্রান্তর প্রদক্ষিণ করার সময় তাদের কষ্ঠে কেবলই ধ্বনিত হয়- হায় হােসেন । হায় ইমাম! মুহাম্মদ মােফা ! ইয়া আলি ইমাম লঙ্কা ! কাশেদগণ পথ-প্রান্তর অতিক্রম শেষে নির্ধরিত বাড়িতে গিয়ে চক্রাকারে ঘুরে ঘুরে বুক চাপড়িয়ে কারবালায় ঘটে যাওয়া হয় বিদারক করুণ গাঁথা মার্সিয়া, জারি, সারি সুরে-ছন্দে নেচে গেয়ে পরিবেশন করেন। সেই সাথে ইমাম হােসেন প্রেমে অনেকে কাশেদ আবেগ আপ্লত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা কারবালা প্রান্তরে যে ইমাম হােসেন (আঃ) পাষন্ড ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছিলেন তার জীবন্ত বর্ননা এই কাশেদ দল জারি, সারি, মাসিয়া, ও দেহের অঙ্গভঙ্গির সঞ্চালনের মাধ্যমে প্রাপ্ত করে উপার্জন করেন ।

কারবালার প্রান্তরে ঘটে যাওয়া নির্মম কাহিনীর জারি-মার্সিয়ার শ্রবণ করে শোক শ্রোতারা দিলের ভেতর রসুল ও আহলে বাইতের প্রতি মহব্বত পয়দা করেন। মহররম পর্বের মাধ্যমে মূলত মানুষের মাঝে সত্যিকারে রসুলপ্রমী ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা হয় । গড়পাড়া ইমাম বাড়িতে পবিত্র মহররম উপলক্ষে অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষের আগমন ঘটে এবং এখানে সত্যিকারের দ্বীন ও জ্ঞানের চর্চা হয় । কল্যাণকর কাজের জন্য জ্ঞান চর্চা দরকার । পরিপূর্ণ জ্ঞানের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা খুবই দরকার। আর্থিক প্রয়ােজনের চেয়ে আত্মিক উৎকর্ষ সাধন খুই সরকার। এই আত্মিক জ্ঞানার্জনে গড়পাড়া ইমামবাড়ি যুগ ফুগ ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

৬ ডিসেম্বর ২০১১খ্রি. ইরান দূতাবাসের প্রতিনিধি আলহাজ্ব হামিদ রেজা রেজা ইরান আল মুফা আন্তজার্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেছিলেন, এই শােক গাঁথার যে অনুশীলন পড়পাড়া ইমাম বাড়িতে হচ্ছে তার ছওয়াবের পরিমাণ এত বেশি যে ফেরেস্তারাও তা লিখে শেষ করতে পারবে না যারা ইমাম হােসেনের স্মরণে চোখের পানি ফেলবে তাদের কিয়ামতের দিন আর চোখের পানি ফেলতে হবে না। কাল কিয়ামতের দিন আল্লাহ যেন ইমাম হােসেনের সাথে আমাদের একত্রিত করেন। ১০ মহররম প্রতি বছর বিশাল মিছিল নিয়ে মানিকগঞ্জ শহরে এসে বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে। এই মহররমের মিছিল দেখার জন্য হাজার হাজার আবাল বৃদ্ধবণিতা রাস্তার পার্শ্বে দাঁড়িয়ে উপভােগ করে। মহররমের মিছিল এক নজর দেখার জন্য গ্রাম-গঞ্জ থেকে পঙ্গপালের মতাে মানুষ ছুটে আসে। ১০ মহররম মানিকগঞ্জ শহরে এই সময় শহরের সমস্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গড়পাড়া এমাম বাড়ির মহররমের সব আয়ােজন এখন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির পেশার মানুষের কাছে এক কাঙ্খিত আয়োজন।

মো. মোশারফ হোসেন,

লেখক ও গবেষক।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর