অদম্য মেধাবী আকাশের গল্প ও BAPEN FOUNDATION

অনলাইন ডেস্ক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১৮০ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 167
    Shares

আকাশদের থাকার ঘরটি টিনের চৌচালা। ঘরের পাতলা কাঠের বেড়ার ফাঁক দিয়ে রাতের বিশাল আকাশ দেখা যায়। কত্তবড় সেই আকাশ! সেখানে ছোট ছোট নক্ষত্রের বাতি জ্বলে রাতের অন্ধকার ভেদ করে। আকাশের ছোট্ট মনটায়ও চিকচিক করে ছোট একটা স্বপ্ন জ্বলজ্বল করে। আহা! আমি যদি একদিন বড় হতে পারতাম! ভাল করে লেখাপড়া শিখে যদি নিজে কিছু একটা করতে পারতাম।

রিকশাওয়ালা বাবার চালা ঘরের মাটির দাওয়ায় বসে আকাশ খুব মন দিয়ে লেখাপড়া করে। চর করনেশন বলে একটা প্রাথমিক স্কুলে যায় আকাশ। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে রোজ সে দিনের পড়া খুব মন দিয়ে পড়ে। ছোট্ট চিকচিকে স্বপ্নটা একবার তাঁরার মতন উঁকি দিয়ে যায় আকাশের মনের কোণে। আহা! আমি যদি আরো পড়তে পারতাম! আকাশের গরীব বাবার নুন আনতে পান্তা ফুরায়। আকাশ ছাড়াও আরো দুটি বোন তাদের সংসারে। মোট এই পাঁচটি প্রাণীর ভরণপোষণের বোঝাতেই আকাশের বাবার প্রাণ বের হবার অবস্থা। তার মা মায়া রাণী গৃহিণী। দুবেলা ছেলেমেয়ে মুখে খাবার তুলে দেওয়াই আকাশের বাবার জন্য কষ্ট হয়ে যায়। তায় আবার আকাশের স্কুলে পড়ার শখ! আকাশের বাবা পেরে উঠেন না। নিজেরা জানেননা লেখাপড়া, বাড়ি ফিরে ছেলেকে কে একটু পড়াশোনাটা দেখিয়ে দেয়! বাড়িতে মাস্টার রাখার কথা তো আকাশের বাবা স্বপনের ভাবতে পারেন না! কি হবে ছেলেটার পড়ালেখার! আকাশের মা বাবা চিন্তায় পড়ে যান।ছেলের আগ্রহ আছে। কিন্তু তাদের তো সাধ্য নেই! সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যে টেনেটুনে কোনওমতে শিক্ষকদের সহযোগিতায় পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা দেয় আকাশ।

কিন্তু রেজাল্ট বের হলে মন খারাপ হয়ে যায় তার। আকাশের রেজাল্ট জিপিএ ৪.৭৫. একটুর জন্য সে বৃত্তি পায়নি। আকাশের বাড়ির এই ভাঙাচোরা ও দূরাবস্থা দেখে চর দৌলতদিয়া স্কুলের শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন নিজের বাড়িতে নিয়ে যান আকাশকে। তিনি পরম মমতায় এই গরীব ছেলেটিকে পড়ান। শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের প্রচেষ্টায় আকাশ ২০১৭ সালে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় জেএসসি পরীক্ষায়। কিন্তু মোঃ দেলোয়ার হোসেন স্যারের সাথে আকাশের জীবনের সেই অংশ শেষ হয়ে যায়। চর দৌলতদিয়া স্কুলটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্তই।

আকাশ আবার অকূলদরিয়ার মাঝখানে এসে পড়ে। এইবার এগিয়ে আসেন আক্কাস আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির হোসেন। তিনি আকাশকে খুব যত্নের সাথে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে আকাশ বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পায়। এতদিনে আকাশ মনে মনে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে। নিজের মনে আকাশের মত বড় স্বপ্ন লালন করা শুরু করেছে সে। আকাশ মনে মনে ঠিক করে বুয়েটে পড়বে সে। একদিন বড় ইঞ্জিনিয়ার হবে। দেশের কাজে যোগ দেবে। কিন্তু আকাশের স্বপ্নের সামনে হাজারো পর্বত এসে খাড়া হয়ে যায়। কলেজে ভর্তির টাকাই তো নেই তার কাছে। বাকি পড়াশোনা করে সে কেমনে আগে বাড়বে! আকাশের জন্য দৈনিক প্রথম আলোতেও একটা লেখা বের হয়েছে তাকে দেশের কোনও বিত্তবান মানুষ যদি সহয়তায় এগিয়ে আসে এই আশায়।

এমতাবস্থায় কোনও স্বহৃদয় মানুষ যদি থাকে, যিনি আকাশের শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন বা শিক্ষক মোঃ জাকির হোসেনের মতন আকাশকে হাত ধরে আরো কিছুটা পথ এগিয়ে নিয়ে যাবেন! নিশ্চয়ই এমন মানুষ আছেন, যারা দেশ নিয়ে ভাবেন, দেশের মানুষ নিয়ে ভাবেন। সমাজের সেইসব হৃদয়বান ও ঐশ্বর্যবান মানুষের সদয় দৃষ্টি ছোট্ট আকাশের উপর পড়ুক, যাতে তাঁর বড় ইন্জিনিয়ার হবার স্বপ্নটি বেঁচে থাকে। মানুষের সহায়তায় একজন প্রান্তিক, স্বপ্নবাজ মানুষ আকাশ যেন নিজের একটি সুন্দর জীবন তৈরি পারে, স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে পারে। এরকম অদম্য মেধাবী আকাশ সহ অনেক আকাশের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে এগিয়ে এসেছে বাপেন ফাউন্ডেশন। আপনি চাইলে এই মহতীকাজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

বিকাশ করতে পারবেন

০১৭১৩ -৫২১৪৬৫,

মো: জাকির হোসেন

( প্রধান শিক্ষক) দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাই স্কুল

 

০১৮২২-৯৬৪৭১৭

মো: রাশেদুল ইসলাম

ম্যানেজার, রুপালি ব্যাংক লি. মানিকগঞ্জ।


বি. দ্র: বাপেন এর শিক্ষাবৃত্তি ফরম পাওয়া যাবে ‘ রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ ও রাজবাড়ী সার্কেল অফিসে এবং ফেসবুক লিংকে। যাচাই-বাছাই করে সীমিতসংখ্যক অস্বচ্ছল ও মেধাবীদের এককালীন বৃত্তি দেয়া হবে)

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর