খন্দকার লাইব্রেরী রাজবাড়ী
শিরোনাম

অবশেষে ১৭ আগস্ট থেকে খুলছে কক্সবাজার

অনলাইন ডেস্ক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১০৬ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 1
    Share

১৭ আগস্ট থেকে সীমিত আকারে খুলছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প। থাকছে নানা নির্দেশনা। পর্যটন শিল্প খুলে দেওয়ার খবরে খুশি হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউস মালিক, কর্মচারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে ৫ মাস আগে বন্ধ হয়ে যায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলো। জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্তে এসব পর্যটন স্পট, ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস, ৩ শতাধিক রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। স্থবিরতা নেমে আসে পুরো পর্যটনশিল্পে। এই সময়ে ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছে কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স।

জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির জুম কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসে। কমিটির সার্বিক সমন্বয়কারী স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতিতে আগামী ১৭ আগস্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শুধুমাত্র কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল রেস্টুরেন্টসহ এ শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। যেমন এ সময়ে, সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্য বিধি এবং কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে, গাইডলাইন বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে পরামর্শ করে কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে এবং তা বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য কমিটি গঠন করা হবে, কক্সবাজারে আসা পর্যটকসহ সকলকে বিধি নিষেধ নিজ দায়িত্বে জেনে নিয়ে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে, গাইডলাইন অনুসরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, কক্সবাজারের স্থানীয় নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে চলাফেরা করতে হবে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের গতি প্রকৃতি পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে পর্যটনশিল্প বৃহত্তর পরিসরে খুলে দেওয়া বা পুনরায় বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নে কক্সবাজারবাসীসহ সকলের প্রতি আহবান জানান জেলা প্রশাসক।

এসব বিধি-নিষেধের মাঝেও পর্যটনশিল্প খুলছে এমন খবরে খুশি এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা। ১৭ আগস্ট থেকে থেকে সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও সমুদ্রসৈকতে এখন থেকে স্থানীয় এবং কিছু পর্যটক এর আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপুল সংখ্যক স্থানীয়দের পাশাপাশি বেশ কিছু পর্যটককে দেখা গেছে সমুদ্র সৈকতে ঘোরাফেরা করতে। কাজ শুরু করেছে লাইফ গার্ড কর্মীরাও। লাইভ কার্ড কর্মীরা জানিয়েছেন সেতু পর্যটক আসছে সেহেতু তাদের নিরাপত্তা দিতে তারা কাজ করছে।

হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও হোটেল ওশান প্যারাডাইস এর চেয়ারম্যান লায়ন এম এন করিম বলেন, ৫ মাস ধরে হোটেল বন্ধ থাকলেও ব্যাংকের ঋণের কিস্তি বন্ধ থাকেনি। প্রতি মাসে টাকা দিতে হয়েছে। আমরা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছি। তাই যেভাবে হোক পর্যটন শিল্প খুলছে এই খবরে আমরা খুশি।

হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ বলেন, এ পর্যটন জোনে কাজ করে এমন লক্ষাধিক শ্রমিক গত ৫ মাস ধরে বেকার হয়ে আছে। হোটেল মালিকরা ঈদের সময়ও তাদের কোন বেতন-ভাতা দেয় নাই। তাই এখন পর্যটনশিল্প খোলার খবরে এসব কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি নাঈমুল হক চৌধুরী টুটুল বলেন, আমরা চাই যেকোনোভাবে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হোক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা ব্যবসা করতে চাই।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স এর সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, এসময়ে ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কক্সবাজারকক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, এখন প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে ১৭ তারিখ থেকে সীমিত আকারে পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেওয়ার। তবে তার আগে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। খুলে দেওয়ার আগে বিশেষ একটি গাইডলাইন তৈরি করা হবে। যাতে হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউস, রেস্টুরেন্ট, কিটকট, ফটোগ্রাফার, হকার, পর্যটক সবার জন্য পৃথক নির্দেশনা থাকবে।

টুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতে পর্যটক নামা নিষিদ্ধ রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা পেলে আমরা অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকরা যাতে সৈকতে নামতে পারে এবং কক্সবাজারে আসতে পারে সেই ব্যবস্থা করবো।

সূত্র: বিডিপ্রেস এজেন্সি/টিএস

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর