নৌকার সমর্থকদের পিটালেন ছাত্রলীগ সভাপতি।

ষ্টাফ রিপোর্টার | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১৪৯ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১

0Shares

স্টাফ রিপোর্টারঃ

গতকাল রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সালাউদ্দিন খান তারেকের সমর্থকেরা ভোট চাইতে গেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাইসুল ইসলাম দুই জনকে পিটিয়ে আহত করে তার বাড়িতে বেধে রাখে পরে পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এসময় নৌকা প্রার্থীর সমর্থকদের ৮ থেকে ১০ মোটরসাইকেল ভাঙ্চুর করে। অন্য সমর্থকেরা জীবনের ভয়ে পালিয়ে যায়।

আহতরা হলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাইসুল ইসলাম, তাঁর বাবা আব্দুল করিম ও মা হাসিনা খাতুন এবং নৌকা প্রার্থীর ভাটার ম্যানেজার ওবাইদুর রহমান, মাসুদ, শান্ত। আহতা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাইসুল ইসলাম বলেন, নৌকার প্রার্থী ও তাঁর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন লোকজন এবং পুলিশ আমার বাড়িতে হামলা চালায়। মূলত আমাকে তুলে নেওয়ার জন্য এসেছিল। পরে আমার লোকজন চলে আসলে সংঘর্ষ হয়। এতে আমি আমার বাবা ও মা এবং ওবাই নামের একজন আহত হয়।’

বৃহস্পতিবার সকালে শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর, বেলঘুড়িয়া, আড়াপাড়া ও নাউতি পূর্বপাড়া এলাকা ঘুরে এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত নয়টার দিকে মির্জাপুর বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকের গাজী হাসান তারেক বিপ্লবের সমর্থকরা একটি মিছিল বের করে। এসময় নৌকা প্রার্থী সালাউদ্দিন খান তারেকের সমর্থিতরা ১৫ থেকে ২০ টা মোটরসাইকেল নিয়ে মিছিল করে। মিছিলে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিয়ে কটুকথা ও অশ্লীল গালিগালাজ করা হয়। এনিয়ে উভয় পক্ষের বাগবিতণ্ডা হয়।

এরপর রাত সাড়ে ১২ টার দিকে নৌকার ৬০ থেকে ৭০ জন সমর্থক উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাইসুল ইসলামের বাড়িতে ও মির্জাপুর বাজারের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর অফিসে হামলা চালায়। এসময় রাইসুল ও তাঁর পরিবারের লোকজন চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা ছুটে আসলে দুগ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়।

আরো জানা গেছে, মির্জাপুর বাজার এলকায় দুগ্রুপের সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষ নিজ নিজ এলাকার মির্জাপুর, বেলঘুড়িয়া, আড়াপাড়া ও নাউতি পূর্বপাড়া জামে মসজিদে ঘোষণা দেয় তাঁদের প্রার্থী মির্জাপুর এলাকায় আটকা পড়েছে। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। এপ্রচার শুনে গ্রামবাসী রাস্তায় বেড়িয়ে পড়ে এবং উভয়পক্ষ মুখোমুখির হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এবিষয়ে আড়পাড়া পূর্বপাড়া জামে মসজিদ এলাকার লোকজন নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ‘ রাত একটার দিকে হঠাৎ মসজিদের মাইকে শোনা যায় যে, একটি কুচক্রী মহল আমাদের চেয়ারম্যান গাজী হাসান তারেক বিপ্লবের বাড়িতে হামলা করতে আসছে। আপনারা সবাই যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে অবস্থান করেন।’

বেলঘুড়িয়া দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ এলাকার বাসিন্দারা জানায়, ‘ রাত একটার মসজিদের মাইকে শোনা যায় যে, আমাদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন খান তারেকের বাড়িতে একটি কচক্রিমহল হামলা করতে আসছে। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন।’

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী হাসান তারেক বিপ্লব বলেন, ‘ নৌকার প্রার্থী উপস্থিত থেকে পুলিশেরর সহযোগীতায় আমার অফিস ও কর্মী রাইসুলের উপর হামলা করেছে। প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করছে। আমি নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত। বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ করা হবে। ‘

নৌকার প্রার্থী ও ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন খান তারেক বলেন, ‘ রাতে আমার কর্মীরা ভোট চাইতে গিয়েছিল। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক ছাত্রলীগের সভাপত আমার লোকদের উপর হামলা চালায়। এতে মাসুদ,ওবাই ও শান্ত নামের তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। এছাড়াও বেশকিছু মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। ‘

তিনি আরো বলেন, ঘটনার আগে বা পরে ঘটনাস্থলে আমি যায়নি। খবর পেয়ে প্রশাসনকে অবিহিত করি। পরে প্রশাসন ছাত্রলীগ সভাপতির বাড়ি থেকে আহতদের উদ্ধার করে।’

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘ পুলিশের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। পুলিশ অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন উপহার দিতে নিরপেক্ষ ভূমিকায় আছে। রাতে খবর পেয়ে পুলিশ পরিবেশ শান্ত করেছে। এঘটনায় কোন অভিযোগ পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘

উপজেলা রিটার্নিং ও নির্বাচন কর্মকর্তা শিরিনা আক্তার বানু বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণসহ কোন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg