পাংশা সাহিত্যিক এয়াকুব আলী চৌধুরীর ৮১ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ষ্টাফ রিপোর্টার | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১০৬ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১

0Shares

স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজবাড়ী জেলার পাংশা এয়াকুব আলী চৌধুরী স্মৃতি পাঠাগার এর আয়োজনে ১৫ ডিসেম্বর সাহিত্যিক ও সাংবাদিক এয়াকুব আলী চৌধুরী ৮১ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে পাংশা পৌর এলাকার মাগুড়াডাঙ্গী গ্রামে সাহিত্যিকের নিজ পৌত্রিক বাড়িতে দোয়া ও আলোচনা সভার মধ্যে দিয়ে পালিত হয় দিবসটি।

উল্লেখ্য, মাগুড়াডাঙ্গী নিজ পৌত্রিক বাড়িতে চির নিদ্রায় শায়িত রয়েছেন সাহিত্যিক মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী। জন্ম রাজবাড়ী জেলার পাংশার মাগুরাডাঙ্গা গ্রামে ১৮ কার্তিক ১২৯৫ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। তার অগ্রজ, মাসিক সাহিত্য পত্রিকা কোহিনূর (১৩০৫-১৩০৮, ১৩১১-১৩১৩, ১৩১৮-১৩১৯ ও ১৩২২) সম্পাদক রওশন আলী চৌধুরী রোগাক্রান্ত হলে ওই পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব নেন। ১৯১৪-১৫ সালে চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই থানার জোরওয়ারগঞ্জ হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন।

তিনি অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদান করে কারাবরণও করেন। কারামুক্তির পর শিক্ষকতায় ইস্তফা দিয়ে কলকাতায় যান এবং মেজ ভাই আওলাদ আলী চৌধুরীর সাথে সাংবাদিকতায় যোগ দেন।

বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির (৪ সেপ্টেম্বর, ১৯১১) প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন। এ সমিতির সম্পাদক হিসেবেও কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। সমিতির মাসিক পত্রিকা সাহিত্যিক-এর (১৯২৬) যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এয়াকুব আলী চৌধুরী ও কবি গোলাম মোস্তফার যুগ্ম সম্পাদনায় এটি এক বছর চলেছিল। রওশন আলী চৌধুরী ও আওলাদ আলী চৌধুরীর অকাল মৃত্যুতে তাদের পরিবারের দায়িত্ব নেন এয়াকুব আলী। শোক-দুঃখ-দারিদ্র্যে নিপতিত হয়ে মাত্র ৪৭-৪৮ বছর বয়সে ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হন। শেষ জীবনের চার-পাঁচ বছর জীবন্মৃত অবস্থায় গ্রামের বাড়িতে বাস করেন। মৃত্যুর দুই বছর আগে বঙ্গীয় সরকার মাসিক ২৫ টাকা হিসেবে সাহিত্যিক বৃত্তি মঞ্জুর করেন তার জন্য।

বাংলা গদ্যের একজন শক্তিশালী শিল্পী ছিলেন তিনি। ইসলামী দর্শন ও সংস্কৃতি তার রচনার মূল উপজীব্য। বক্তব্যের বলিষ্ঠতায়, ভাষার মাধুর্যে ও ভাবের গাম্ভীর্যে তার রচনাবলি বিশেষ মর্যাদার দাবিদার। হিন্দু-মুসলমানের সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী।

তিনি চিরকুমার ছিলেন এবং সচ্চরিত্র ও ন্যায়নিষ্ঠার জন্য সুপরিচিত। বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা বাংলা না উর্দু- এ বিতর্কে তিনি বাংলা ভাষার পক্ষাবলম্বন করেন। সুবক্তা হিসেবেও তিনি খ্যাত।

তার প্রকাশিত গ্রন্থ : ধর্মের কাহিনী (১৯১৪), নূরনবী (১৯১৮), শান্তিধারা (১৯১৯), মানব মুকুট (১৯২২)। মৃত্যু, ফরিদপুর, ১৫ ডিসেম্বর ১৯৪০। উল্লেখ্য, ‘নূরনবী’ গ্রন্থে, রবীন্দ্রনাথের প্রশংসাবাণী সংযোজিত হয়েছে।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg