শিরোনাম
গোয়ালন্দে একদিনে নারীসহ ১৩ আসামি গ্রেপ্তার পাটুরিয়া ঘাটে গাড়িসহ ফেরি ডুবি- এক ঘণ্টার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলার ইউএনও হলেন বাবলী- শিবালয়ে নিষিদ্ধ সময়ে যমুনার চরে দিনব্যাপী ইলিশের হাট দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে যৌনকর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার- গোয়ালন্দে কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহল মরাপদ্মায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বহিস্কার গোয়ালন্দে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আটক- গোয়ালন্দে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই জন আটক গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

অনেক ভোগান্তি,জন্ম সনদ সংশোধন করতে-

রনি মন্ডল | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১

0Shares

স্টাফ রিপোর্টারঃ

গোয়ালন্দ পৌরসভা ১নং ওয়ার্ডের হাউলি কেউটিল বক্স ফকির এলাকার বাসিন্দা জহুরা খাতুন । তার এক ছেলে এক মেয়ে। স্কুলের প্রয়োজনে মেয়ের জন্য জন্মনিবন্ধন ঠিক করতে এক মাস আগে গোয়ালন্দ পৌরসভায় যান তিনি। পৌর কর্মকর্তারা জানান, সন্তানের জন্মনিবন্ধন ঠিক করতে হলে মা-বাবার জন্মনিবন্ধন অবশ্যই থাকতে হবে এবং তা ঠিক থাকতে হবে।

জহুরা খাতুনের জন্ম সনদ ঠিক থাকলেও তার স্বামীর নামের একটু ভুল দেখা দেয়। স্বামীর জন্ম সনদ ঠিক করতে অন্তত ৫ দিন পৌরসভার সংশ্লিষ্ট শাখায় ঘুরাঘুরি করে দরখাস্ত করেন।

তাতেও তার ভোগান্তি শেষ হয়নি। পৌরসভা থেকে দরখাস্ত এপ্রুভ করে ‘ডিসি’ অফিসে গিয়ে জমা দিতে হবে। কয়েকদিন আগেও পৌর কর্তৃপক্ষ জমা দিলেও এখন তা নাকি নিজে গিয়ে জমা দিতে হবে।

জহুরা খাতুনের মতো গোয়ালন্দ পৌরসভার আরো প্রায় শতাধিক বাসিন্দাকে ভিড় করতে দেখা যায় পৌরসভার সংশ্লিষ্ট শাখায়।তারাও জন্ম সনদের ভুল সংশোধন করতে এসে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জন্মনিবন্ধন সনদের ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করার শর্তে জটিলতা রয়েছে। রয়েছে সনদ প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা। সরকারি ফির বাইরেও নেওয়া হচ্ছে অর্থ। পাসর্পোট তৈরি, বিয়ে ও জমি রেজিস্ট্রেশন, শিশুদের করোনার টিকা এবং স্কুলে ভর্তিসহ ১৭টি সেবার ক্ষেত্রে জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু ‘বাধ্যতামূলক’ ও জরুরি এই সনদ পেতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে।

জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন কার্যালয়ের জনবল সংকট, ইন্টারনেটের ধীরগতি ও কেন্দ্রীয় সার্ভারে নানা জটিলতার কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা। সম্প্রতি দেশে ১২ থেকে ১৮ বছরের শিশুদের করোনার টিকা কার্যক্রম শুরু হলে জন্মনিবন্ধনের সনদ উত্তোলনের হার বেড়ে যায়।

কিন্তু এই সনদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অভিভাবকরা ঘাটে ঘাটে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকাও। আবার অনেকের জন্মসনদ সংশোধন করতে হচ্ছে। সেখানে ভোগান্তি আরও বেশি। জন্মনিবন্ধন উত্তোলন ও সংশোধনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দালালচক্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তারা জানান, জনবল সংকট, ত্রুটিপূর্ণ প্রযুক্তির ব্যবহার, ইন্টারনেটের ধীরগতি, কেন্দ্রীয় সার্ভারে ত্রুটি, সেবাদানকারীর দুর্ববহার, তথ্য প্রদানে অনীহা এবং নাগরিকদের সচেতনতার অভাবে সারাদেশের ‘জন্মনিবন্ধন সনদ’ কার্যক্রম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

জন্মনিবন্ধন সংশোধনে ভোগান্তির বিষয়ে প্যানেল মেয়র মো.ফজলুল হক বলেন, ‘সংশোধনে প্রকৃতপক্ষে কোনো ভোগান্তিই নেই। অনলাইনে ঘরে বসে সহজেই সংশোধন করা যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ জন্মনিবন্ধনের বিষয়ে এতদিন সচেতন ছিল না। এখন সচেতন হচ্ছে। কারণ ১৬টি সেবা পেতে বাধ্যতামূলকভাবে জন্মসনদ লাগে।’

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg