স্টাফ রিপোর্টার”
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নতুন ব্রীজসংলগ্ন পর্যটন এলাকায় কেনা জমি ফিরে পেতে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মনি খা ও তাঁর পরিবার।
শনিবার (২ নভেম্বর) সরেজমিনে মাখন রায়ের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে গিয়ে দেখা যায়, দেয়াল তোলা একটি দোকানঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।
মনি খার ছেলে শিমুল বলেন, “আমরা বিএনপি করি বলে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছি। নিজেদের কেনা জমির দলিল, মিউটেশন ও খাজনার রশিদ সব কিছুই আছে, তবুও জমির দখল পাচ্ছি না। একসময় পালিয়ে থাকতে হয়েছে, কোর্টে মামলা করতে হয়েছে। এমনকি সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করাতে পারিনি।
মনি খা জানান, তিনি একাধিক দাগে মোট ৩০ শতাংশ জমি কিনেছেন। তবে বর্তমানে মাত্র ১ শতাংশ জমির দখলে আছেন। ভূমি অফিসে জমা দেওয়া তাঁর আবেদনপত্রের প্রেক্ষিতে উজানচর ভূমি অফিসের তৎকালীন কর্মকর্তা আনসার উদ্দিনের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে মমিন খা ৩০ শতাংশ জমির মালিক হলেও বাস্তবে ভোগদখলে আছেন মাত্র ১ শতাংশ।
তিনি অভিযোগ করেন, ৫৩৩৪ দাগে ৯ শতাংশ, ৫৩৩৬ দাগে পৌনে ১৪ শতাংশ এবং আরও ৬ শতাংশ বায়নাকৃত জমি মিলে আমার ৩০ শতাংশ জমি হওয়ার কথা। কিন্তু নিজের জমিতে দোকান তুলতে গেলেই বাধা দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মাখন রায়ের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবর মোল্লা বলেন, এখানে মোট জমি প্রায় ৩০ শতাংশ ছিল। মনি খা তার এক অংশ কিনেছেন, যা আনুমানিক সাড়ে ৭ শতাংশ হতে পারে। তবে এখন সেই জমিও তাঁর দখলে নেই।
এ বিষয়ে মনি খার ছেলে শিমুল বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন সবসময় সুবিধা পায়, কিন্তু আমরা দলিলপত্র ঠিক থাকলেও অসহায় অবস্থায় আছি।
উজানচর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আনসার উদ্দিন বলেন, স্কুলে একটি টয়লেট নির্মাণের সময় মনি খা আপত্তি জানান। তদন্তে দেখা গেছে, তাঁর জমি বিএস রেকর্ড অনুযায়ী সঠিক এবং তিনি নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করেন। তবে জমির সঠিক অবস্থান নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি আছে।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন জানান, জমিটি নিয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। মনি খার কাগজপত্র ঠিক আছে। সঠিকভাবে মাপঝোক করলে স্কুলের জমি ও তাঁর জমির সীমানা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব।